মনোজ মাহমুদ
রিফ্লেক্সলজিস্ট ও আকুপ্রেশার এক্সপার্ট
ফ্যাটি লিভার হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি (fat) জমে যায়। সাধারণত লিভারে সামান্য চর্বি থাকতে পারে, কিন্তু যদি লিভারের ওজনের ৫ থেকে ১০%-এর বেশি চর্বি জমে, তখন তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।
ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের : ১. অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভার, যা অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে হয়। ২. নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, যা মদ না খেলেও অন্য কারণে হতে পারে।
কারণ
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ডায়াবেটিস (বিশেষ করে টাইপ ২), রক্তে চর্বি (Triglyceride/Cholesterol) বেশি থাকা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস (ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড বেশি খাওয়া), শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, উচ্চ রক্তচাপ, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
লক্ষণ
শুরুর দিকে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে সমস্যা বাড়লে, ডান পাশে পেটের ওপরের অংশে ব্যথা বা ভারী অনুভূতি, সবসময় ক্লান্ত লাগা, হালকা বমিভাব, ক্ষুধামান্দ্য, লিভার বড় হয়ে যাওয়া (আলট্রাসাউন্ডে ধরা পড়ে) গুরুতর হলে (লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে), চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়া (জন্ডিস) পেট ফুলে যাওয়া, পা ফুলে যাওয়া।
চিকিৎসা ও করণীয়
ফ্যাটি লিভারের নির্দিষ্ট কোনো ‘ম্যাজিক’ ওষুধ নেই। মূল চিকিৎসা হলো লাইফস্টাইল পরিবর্তন।
যা করতে হবে :
ওজন কমানো (৫ থেকে ১০% কমালেই অনেক উন্নতি হয়),
নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম (প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট),
ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো,
মিষ্টি ও কোমল পানীয় কম খাওয়া,
ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা,
অ্যালকোহল পুরোপুরি পরিহার।
ফ্যাটি লিভারের ঘরোয়া চিকিৎসা
১. সকালে কুসুম গরম লেবু পানি : ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস। হজমে সাহায্য করে ও ওজন কমাতে সহায়ক। ডায়াবেটিস
থাকলে মধু যোগ করবেন না।
২. আপেল সিডার ভিনেগার : রাতে ঘুমানোর আগে ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেয়ে নিন।
৩. মেথি পানি : এক চা চামচ মেথি এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন, সকালে খালিপেটে শুধু পানি পান করুন।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
যা খাবেন : সবজি, শাক, ডাল, ওটস, লাল চাল, আটার রুটি, সামুদ্রিক মাছ (ওমেগা-৩) ও বাদাম অল্প পরিমাণে।
যা এড়াবেন : ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি, গরু বা খাসির চর্বিযুক্ত মাংস, অ্যালকোহল সম্পূর্ণ বন্ধ।
ফ্যাটি লিভারে আকুপ্রেশার পয়েন্ট
আগে জেনে রাখুন : আকুপ্রেশার সহায়ক (ংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃরাব) পদ্ধতি। এটি লিভারের চর্বি সরাসরি গলিয়ে দেয় না। ডায়েট, ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণই মূল চিকিৎসা।
উপকার : লিভারের এনার্জি ব্যালান্স, হজমে সহায়তা, পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য। ডান পাশে ভারীভাব বা অস্বস্তি কমাতে সহায়ক। শরীরের ডিটক্স সাপোর্ট, স্ট্রেস কমানো।
কতক্ষণ ও কতবার করবেন?
প্রতিটি পয়েন্টে ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট পাম্প করার মতো করে চাপ দিন। দিনে ২ থেকে ৩ বার করুন।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল
থাকলে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ৩ থেকে ৬ মাস পর আলট্রাসাউন্ড বা লিভার টেস্ট করে অগ্রগতি দেখুন।