জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার পর অনশন ভেঙেছেন। সরকার বা বিরোধী দলকোনো পক্ষ থেকেই নির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তারা অনশন প্রত্যাহার করেন।
গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, শহীদ সাইদুল ইসলাম, শহীদ জাবের ও শহীদ সৈকতের বাবাসহ জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের আশ্বাস দেন। পরে তারা ডাবের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। অনশন ভাঙার পর শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
অনশনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাকিবুর রহমান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের দেখতে এসে তাদের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। উপাচার্য বলেন, এটা রাজনৈতিক ইস্যু। এ কারণে বলবএই ফয়সালা সংসদেই হবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ বা কোনো সমস্যায় থাকলে আমার দায়িত্ব আছে। সেই জায়গা থেকে আমি এসেছি। তাদের দেখাশোনা করার জন্য গতকালকে আমরা ডাক্তার পাঠিয়েছি। তাদের মেসেজগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেব বাকি সিদ্ধান্ত তারা নেবে।
গত তিন দিনে অনশনস্থলে এসে সংহতি জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেন এবং শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফরহাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
