প্রবীণ আইনজীবী, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই। গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তার ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, শফিক আহমেদ অনেক দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত শনিবার তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মৃত্যুকালে তিনি বড় ছেলে ডা. মাহফুজ শফিক, ছোট ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক ও মেয়ে ডা. মাশরুরা শফিক, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শফিক আহমেদের স্ত্রী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি (১৯৬৬-৬৮) অধ্যাপক মাহফুজা খানম গত বছরের ২৭ আগস্ট ৭৯ বছর বয়সে মারা যান।
প্রায় ছয় দশক ধরে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি দেশের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ও সংবিধান বিশ্লেষক ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তবে, এ সময় তিনি মন্ত্রী হিসেবে সরকারি বাড়ি, গাড়ি বা অন্য কোনো সুবিধা নেননি। এর আগে এক-এগারোর সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং এর জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৩৭ সালের ১৬ অক্টোবর কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার নারায়ণপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শফিক আহমেদ। ১৯৫৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৫৫ সালে মেধা তালিকায় ১২তম স্থান পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে একই বিশ^বিদ্যালয় থেকে পরে আইন বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে বার অ্যাট ল ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় নিয়োজিত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়াটিক সোসাইটি, নটর ডেম কলেজ, ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিকস, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অন্তত ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও অধ্যাপক মাহফুজা খানম দম্পতি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর ইন্দিরা রোড খেলার মাঠে শফিক আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর দেড়টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেল ৫টায় আজিমপুর কবরস্থানে তার স্ত্রী মাহফুজা খানমের কবরের পাশে শফিক আহমেদকে দাফন করা হবে।
