কঠিন পরিস্থিতির মুখে ট্রাম্প

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়াকে সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ উভয়ই বলেছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেটের মতে, এ আলোচনা সেশন কতক্ষণ ধরে চলেছে, সেটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনক। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে যে কোনো চুক্তি হয়নি, এটি আশ্চর্যজনক নয়।

লিজ ডুসেট মনে করেন, আমেরিকানরা এ ধারণা নিয়ে পাকিস্তানে এসেছিল যে, যুদ্ধে ইরান এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, তাদের সঙ্গে দ্রুত আপস করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে ইরানেরও নিজস্ব সীমা রয়েছে, অর্থাৎ যেসব বিষয়ে তারা ছাড় দিতে পারবে না বা দেবে না।

জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘তারা (ইরান) আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়নি।’ ইরান শক্তিশালী অবস্থানে আছেএমন বিশ্বাস নিয়ে দেশটি ইসলামাবাদে আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও, তারা এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং ইচ্ছুক। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরানের হাতে এখনো যথেষ্ট দর কষাকষির সুযোগ রয়েছে।

এক দশক আগে তেহরান ও ওয়াশিংটন শেষবার যখন একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছে ছিল, তখন তাতে ১৮ মাস ধরে নানা অগ্রগতি ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। লিজ ডুসেটের মতে, ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবেনহয় পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারেন, অথবা আলোচনায় ফিরে এসে নতুন করে পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন করা। পাকিস্তানের কাজ ছিল ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং আস্থা পুনঃস্থাপন করা।

সানোবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক থিঙ্কট্যাংক কামার চিমা বলেছেন, আলোচনায় পাকিস্তান হতাশ হলেও ‘হার মানবে না’।

কামার চিমা আলজাজিরাকে বলেন, এ আলোচনা ছিল গত দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা’। ইরানকে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এখন ইরানি প্রতিনিধিদলকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে মতামত নিতে হবে, যে নেতৃত্বে এমন অনেক নতুন ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যারা তেহরানের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হওয়ার পর এসেছেন।

পাকিস্তান তার ভূমিকা ভালোভাবে পালন করেছে উল্লেখ করে চিমা বলেন, ‘তাদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসাটা ছিল পাকিস্তানের কাজ। দূরত্ব কমিয়ে আস্থা পুনর্নির্মাণ করাটা ছিল পাকিস্তানের দায়িত্ব এবং পাকিস্তান তার কাজটি করেছে। পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাচ্ছে। উভয় পক্ষই পাকিস্তানের প্রশংসা করছে।’

ইরানের বন্দর অবরোধ ‘কঠিন অভিযান’ হবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানের সব বন্দর ও হরমুজ প্রণালি অবরোধ করতে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এ অবরোধ এক ‘কঠিন অভিযান’ হবে বলে মনে করেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ ইসলামি।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) মার্কিন বাহিনীর অবরোধ শুরু হওয়ার কথা। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ ইসলামি আলজাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর থেকে এবং ইরানের বন্দরের পথে যাওয়া জাহাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রশ্ন যে, মার্কিন বাহিনী কি এই বিশাল জলপথে ট্যাংকার ও সুপারট্যাংকারগুলোকে থামাতে সক্ষম হবে?’ তার মতে, এটা মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘কঠিন অভিযান’ হবে।

মুহাম্মদ ইসলামি জোর দিয়ে বলেন, ইরান বর্তমানে প্রবল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তারা চাইবে না যে, তাদের খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান বন্ধ হয়ে যাক।

আমেরিকানদের প্রতি একটি খুব শক্তিশালী বার্তা পাঠাতে চায় ইরান। যদিও অধিকাংশ দেশ চলমান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের কথা ভাবছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে উভয় পক্ষের (ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র) জন্যই অনেক বড় এক পদক্ষেপ।

‘ট্রাম্পকে পদচ্যুত করা দরকার’

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার ক্রমবর্ধমান আহ্বানে এবার নাম লিখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। অযোগ্যতার কারণে ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে ব্রেনান বলেছেন, ‘এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। আমি মনে করি, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।

বারাক ওবামা প্রশাসনে সিআইএর প্রধান ছিলেন ব্রেনান। তিনি এমএস নাউকে সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্য এবং এতে বহু মানুষের জীবনের ওপর সৃষ্ট ঝুঁকি তাকে পদচ্যুত করার যৌক্তিকতা তৈরি করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত