পরিচিত না হলে সয়াবিন তেল পাওয়া কষ্টের

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে সরবরাহ নামমাত্র বাড়লেও সংকট কাটেনি ভোজ্যতেলে। বরং ভোক্তার হয়রানি বেড়েছে। ঢাকার মুদি দোকানগুলোয় এখন আর সয়াবিন তেল দৃশ্যমান থাকে না, থাকে লুকানো অবস্থায়। পরিচিত না হলে দোকানি বলে দেন তেল নেই। অনেক দোকানি আবার বাড়তি অন্যান্য পণ্য কেনার শর্তে তেল দিচ্ছেন। সয়াবিন তেলের এই অরাজকতার মধ্যেই বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। এ অবস্থায় সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখনো সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। দোকানিরা কাউকে কাউকে তেল দিলেও সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে ক্রেতাকে বাধ্য করছেন। আর ক্রেতা যদি অপরিচিত হন, তাহলে তার কাছে বেশিরভাগ দোকানিই তেল বিক্রি করছেন না।

এমন এক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মিরপুরের বাসিন্দা মো. সুমন। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, গত বুধবার মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটে গিয়েছিলেন সয়াবিন তেল কিনতে। ২০টিও অধিক দোকানে ঘুরে তিনি সয়াবিন তেল কিনতে পারেননি। এর মধ্যে এক দোকানে তেল পেলেও সেখানে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন দোকানি। ২ লিটারের এক বোতল তেল নিতে সঙ্গে ২ কেজি লবণ কিনতে হবে। অথচ এই মুহূর্তে তার লবণের কোনো প্রয়োজন নেই।

পরে তিনি পরিচিত এক দোকানে গিয়ে পড়েন ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখে। দোকানটিতে আগে বাজারের থলে দিতে হয়েছে। দোকানি সেই থলেতে গোপনে ৫ লিটারের একটি বোতল এমনভাবে তুলে দিয়েছেন, যাতে অন্য ক্রেতারা দেখতে না পান।  দাম রাখা হয়েছে ৯৫৫ টাকা।

শুধু মিরপুরের নয়, রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচাসহ বেশিরভাগ বাজারের দোকানেই এই অবস্থা। ক্রেতারা সয়াবিন খুঁজতে গলদঘর্ম হচ্ছেন। সয়াবিন না পেয়ে কেউ কেউ সরিষার তেল বা রাইস ব্রান ওয়েলও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এসব তেলের ভালো সরবরাহ রয়েছে বাজারে।

বাড্ডার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, পাঁচ থেকে ছয়টি দোকান ঘুরেও সয়াবিন কিনতে না পেরে সরিষার তেল কিনেছেন। আপাতত সরিষার তেল দিয়েই রান্নার কাজ সারবেন বলে জানান তিনি।

বাড্ডার এক মুদি দোকানি আব্দুল হালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই দিন আগে ১ লিটারের ১০টি বোলত দিয়েছিল নতুন একটি কোম্পানি, যা এক বেলাতেই শেষ। এখন ক্রেতা এলেও তাদের দিতে পারছি না।’

এদিকে গত রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে। ব্যবসায়ীরা সয়াবিন তেল লিটারে ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও তা সরকারের পক্ষ থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর। কিন্তু এর প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও বাজারে সংকট কাটেনি।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে এবং প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা পর্যন্ত দামে। সবশেষ গত ডিসেম্বরে সয়াবিনের দাম লিটারে ছয় টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল সরকার।

এদিকে তেলের বাজারের সংকটের মধ্যেই বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে সব ধরনের সবজি। আলু ছাড়া বাজারে আসা গ্রীষ্মকালীন সব সবজির দামই এখন চড়া। হাতেগোনা দুয়েকটি ছাড়া কোনো সবজি কেনা যাচ্ছে না ৭০ টাকার কমে। বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এর মধ্যে নতুন আসা বেগুন মান ও জাতভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ৮০ টাকায় পাওয়া যেত। ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০, পটোল ৭০ থেকে ৮০, বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কম। ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে কেনা যাচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক থাকলেও কমতে শুরু করেছে সোনালি মুরগির দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগে ৪৬০ টাকায় উঠেছিল। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত