বর্তমান বিশ্বে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জোয়ারে কি অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ক্রিকেট? আইপিএল, বিগ ব্যাশ বা পিএসএল-এর মতো টুর্নামেন্টগুলোর ভিড়ে টেস্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক ও উদ্ভাবনী প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলেন আইপিএল-এর জনক ললিত মোদী।
ললিত মোদীর মতে, টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হলো এই ফরম্যাটের দলগুলোকে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানাধীন করা। সম্প্রতি 'দ্য ওভারল্যাপ' পডকাস্টে তিনি বলেন, "টেস্ট ক্রিকেট টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হলো—এই কথাটি বলার জন্য কেউ হয়তো আমাকে গুলি করতে পারে, তবে আমি প্রথমবারের মতো এটি বলছি—আইপিএল দলগুলোকে টেস্ট ক্রিকেট দলগুলোর মালিকানা নিতে দিন। আপনার হাতে তরুণ খেলোয়াড় আছে, আপনার হাতে সমর্থকদের আনুগত্যের জায়গা আছে। আপনারা দেশের বনাম দেশের লড়াই খেলুন, নিঃসন্দেহে সেটিই হবে সেরা।"
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের হয়ে খেলা অবশ্যই সর্বোচ্চ সম্মানের, কিন্তু ক্লাব ক্রিকেটের ধাঁচে যদি প্রতি মৌসুমে অন্তত একটি করে টেস্ট সিরিজ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে আয়োজন করা যায়, তবে এই ফরম্যাট আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
ললিত মোদি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, আধুনিক সময়ের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে টেস্ট ম্যাচকে ৪ দিনে নামিয়ে আনা উচিত এবং প্রতিটি ম্যাচ দিবা-রাত্রির (Day-Night) হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, রোদে পুড়ে পাঁচ দিন মাঠে বসে খেলা দেখার মতো বিলাসিতা এখনকার মানুষের হাতে নেই।
মোদী বলেন, "২০০৭ সাল থেকেই আমি বলছি টেস্টকে চার দিনের করা উচিত। মানুষ এখন মোবাইল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সব ম্যাচ দেখার সুযোগ পায়, তাই আগের মতো পাঁচ দিন মাঠে বসে থাকার বিলাসিতা এখন আর নেই।"
কেবল ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াতেই কি টেস্ট সীমাবদ্ধ?
অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে সম্মান জানিয়ে ললিত মোদী আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, বিশ্বের বাকি অংশে এই ফরম্যাট ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তরুণ খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে হলে তাদের খুব অল্প বয়সেই এই ফরম্যাটে সুযোগ দেওয়ার এবং অভিজ্ঞ করার পরামর্শ দেন তিনি।
আইপিএল-এর এই রূপকারের এমন প্রস্তাব ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিসিসিআই বা আইসিসি ললিত মোদীর এই ব্যবসায়িক মডেলকে আদৌ গুরুত্ব দেবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
