মঞ্জুর 'সামান্য' শাস্তিতে অসন্তুষ্ট জাহানারা: সহযোগীদেরও বিচার দাবি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ এএম

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে বিসিবির দেওয়া শাস্তিকে ‘সামান্য’ বলে অভিহিত করেছেন ক্রিকেটার জাহানারা আলম। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিসিবি স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঞ্জুরুল ইসলামকে দেশের ক্রিকেটের সকল কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে জাহানারা মনে করেন, তার সাথে যা ঘটেছে সেই তুলনায় এই শাস্তি যথেষ্ট নয়। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তি দিয়েছে, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমি যা সহ্য করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরও বড় শাস্তির আশা করেছিলাম।"

চার বছরের মানসিক ও আর্থিক হয়রানি

জাহানারা অভিযোগ করেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ চার বছর তিনি চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছেন। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ও তার সহযোগীরা তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং দল থেকে বাদ দেওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, মঞ্জুরুল শাস্তি পেলেও তার এই ‘সহযোগী গ্রুপ’-এর কেন কোনো বিচার হলো না।

আবদুর রাজ্জাকের মন্তব্যে আপত্তি

ভিডিও বার্তায় জাহানারা নারী দলের সাবেক প্রধান আবদুর রাজ্জাকের কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। রাজ্জাক দাবি করেছিলেন যে মঞ্জুরুলকে বেশি বড় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাহানারা বলেন, "তিনি (রাজ্জাক) মন্তব্য করেছেন নারী ক্রিকেটাররা নাকি সমঝোতা করে ক্রিকেট খেলে। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য অত্যন্ত অপমানজনক।"

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে তিনটি বিশেষ অনুরোধ

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এই ক্রিকেটার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন:

মঞ্জুরুলের সহযোগী গ্রুপের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা

জাহানারার অভিযোগের পর অন্যান্য ডিসিপ্লিনের যে ক্রীড়াবিদরাও যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন, তাদের অভিযোগ তদন্ত করে বিচার করা।

উন্নত বিশ্বের আদলে বাংলাদেশেও নারী ও শিশুদের খেলাধুলায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত 'সেফগার্ডিং পলিসি' বা সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করা।

জাহানারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়াঙ্গনকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবং নারী অ্যাথলেটদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত