মাদকের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে আসাদুলকে হত্যা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৯ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে (২৮) হত্যার নেপথ্যে রয়েছে পূর্বের মারামারি ও মাদকের টাকা ভাগাভাগির ঘটনা। এই দুই কারণে পরিচিতরাই তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. মুন্না (২৪), আকতার হোসেন (৪৫), মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন (২৪)। তাদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটরসাইকেল।

গতকাল শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান। তিনি বলেন, এই হত্যাকা- হওয়ার পর আমরা প্রথমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করি। মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাই। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে এই হত্যাকা-ের মূল হোতাসহ চারজনকে আটক করি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।

হত্যাকা-ের কারণ জানতে চাইলে ডিসি ইবনে মিজান বলেন, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তারকৃত আকতারের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুলকে আসামি করে একটি মামলা করে আকতার। সেই মামলায় আসাদুল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় এবং জেলেও যায়। কিছুদিন আগে আসাদুল জামিনে বের হয়ে আসে। এছাড়া আকতার ও আসাদুলের মধ্যে মাদক কারবারের টাকা-পয়সা নিয়ে একটি বিরোধও ছিল। এই দুটি কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে তারই বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বাইরেও আরও বেশ কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত এবং নিহতের নামে একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিহত আসাদুলের নামে ৬টি মামলা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪টি মাদক মামলা, একটি অন্য ধারার মামলা, অন্যটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তারকৃত মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও  ছিনতাইয়ের ৭টি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি ও নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মামলা পেয়েছি। আকতারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা পাইনি।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, তেজগাঁও ডিভিশনের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা বড়। এখানে প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যানÑ এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চলে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন রাস্তায় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার কালনা এলাকার জলিল সর্দারের ছেলে। পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

এই ঘটনায় পুলিশের বাইরে র‌্যাবও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন আসাদুল ইসলাম (২০) ও মো. শাওন (২৮)। তাদের মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত