দেশের ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্থায়ী ভিত্তি দিতে সরকারের ‘ক্রীড়া কার্ড’ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরও ১৭১ জন নতুন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ১৭১ জন খেলোয়াড়ের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং মাসিক এক লাখ টাকা করে ভাতার চেক তুলে দেন। এর আগে প্রথম ধাপে ১২৯ জনকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ সরকারের এই বিশেষ সুবিধার আওতায় এলেন।
দ্বিতীয় ধাপে যারা পেলেন এই সুবিধা
এবারের ১৭১ জনের তালিকায় সবথেকে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ফুটবল ও হকি। পুরুষ ও নারী ফুটবল দল থেকে ৩৬ জন এবং জাতীয় হকি দল (পুরুষ ও নারী) থেকে ৩৬ জন এই কার্ড পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো গঠিত হওয়া জাতীয় নারী হকি দলও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই স্বীকৃতি নারী হকি দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া ভলিবল (১৪ জন), দাবা (১১), আর্চারি (১১), ভারোত্তোলন (১০), হ্যান্ডবল (১০), জিমন্যাস্টিকস (৯) সহ মোট ১৮টি ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
মোরসালিন-ঋতুপর্ণাদের উচ্ছ্বাস
দ্বিতীয় দফায় ভাতার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন এবং নারী ফুটবল দলের ঋতুপর্ণা চাকমারা। ক্রীড়া কার্ড পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মোরসালিন লিখেছেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা। এই উদ্যোগ আমাদের কঠোর লড়াই করতে এবং দেশের জন্য সেরাটা উজাড় করে দিতে অনুপ্রাণিত করবে।”
প্রতিভাবানদের বিশেষ মূল্যায়ন
কেবল জাতীয় দল নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বয়ে আনা জুনিয়র অ্যাথলেটদেরও মূল্যায়ন করছে সরকার। সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণজয়ী সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামকে বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও এক লাখ টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনা হবে। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়। প্রতি চার মাস পর পর ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে এবং তার ভিত্তিতে ভাতার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। অর্থাৎ, পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলেই কেবল খেলোয়াড়রা এই মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা এবং কার্ডের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে বর্তমান সরকার।
দ্বিতীয় দফায় ক্রীড়া ভাতায় কোন খেলার কতজন: ফুটবল (পুরুষ ও নারী): ৩৬, হকি (পুরুষ ও নারী): ৩৬, ভলিবল: ১৪, দাবা: ১১, আর্চারি: ১১, ভারোত্তোলন: ১০, হ্যান্ডবল: ১০, জিমন্যাস্টিকস: ৯, সাঁতার: ৬, টেবিল টেনিস: ৫, শুটিং স্পোর্ট: ৫, সাইক্লিং: ৪, উশু: ৪, জুডো: ৩, কিকবক্সিং: ২, টেনিস: ২, বডি বিল্ডিং: ২ ও ট্রায়াথলন: ১।
