ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, অর্থাৎ সাদা বলের দুই সংস্করণের অধিনায়কই ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের এবারের মৌসুমে খেলবেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে। মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন কুমার দাস রবিবার সই করেছেন লুৎফর রহমান বাদলের দলে, যার কণ্ঠে লিগ শুরুর দিনদুয়েক আগেও শোনা গিয়েছিল আর্থিক কারণে দল গড়তে অপারগতার অজুহাত। যদিও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটিতে জায়গা না পেয়েই তার এমন অভিমান। জাতীয় দলে লিটন-মিরাজদের সতীর্থ নাসুম আহমেদও যোগ দিয়েছেন রূপগঞ্জে।
দু দিনের দলবদলে মোট ১৩৫ জন ক্রিকেটার নতুন মৌসুমে ঠিকানা বদলেছেন। প্রথম দিনেই টোকেন তুলেছিলেন ৭৯ জন, সোমবার বাকি ৫৬ জনও সই করেছেন নতুন ক্লাবে। গত মৌসুমে অধিক দর হাঁকিয়ে দল না পাওয়া লিটন শেষমেশ তামিম ইকবালের হস্তক্ষেপে খেলেছিলেন তার মালিকানায় থাকা গুলশান ক্রিকেট ক্লাবে। এবার লিটন খেলবেন রূপগঞ্জের হয়ে। গত মৌসুমে মোহামেডানে খেলা মিরাজ পাড়ি জমিয়েছেন রূপগঞ্জে। তাদের সঙ্গে রূপগঞ্জে আরও আছেন ইরফান শুক্কুর, হাবিবুর রহমান সোহান, আরিফুল ইসলাম শিবলি, আইচ মোল্লা, সফর আলিসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত এবং উদীয়মান বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। রূপগঞ্জে সই করে লিটন জানিয়েছেন, ‘যে দলটা পেয়েছি, সেখানে যদি টিম হিসেবে বন্ধন তৈরি করতে পারি এবং এক সঙ্গে খেলতে পারি তাহলে এটা নিশ্চিত আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। অবশ্যই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার জাতীয় দল। কিন্তু যখনই ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পাব, তখন যেভাবে পারব দলকে সাহায্য করব।’ মিরাজ বাদলের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘অতীতে অনেক জাতীয় খেলোয়াড় এই ক্লাবের হয়ে সাফল্যের স্বাদ পেয়েছে। তাই এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য খুব ইতিবাচক। আশা করব আরও অনেক খেলোয়াড় এই ক্লাব থেকে বের হয়ে আসবে এবং জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করবে।’
মিরাজ ও লিটনকে দলে নিলেও তারা দুজন কতটা ম্যাচ খেলতে পারবেন তা নিয়ে আছে প্রশ্ন। ৪ মে মাঠে গড়াতে পারে নতুন মৌসুমের লিগ, ২ মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি আর ৮ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ও ১৬ মে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। সিঙ্গেল লিগের আসরে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন শেষে দলের সঙ্গে মিরাজ-লিটনরা যোগ দিতে দিতে হয়তো শিরোপার রেস থেকে ছিটকেও যেতে পারে দল। তখন এই দুজন কেবল রূপগঞ্জের শোভা হয়েই থাকবেন!
শেখ জামাল ধানমন্ডি থেকে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব হয়ে এবারে তারা বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। একই মালিকানায় বিপিএলে রংপুর রাইডার্স। দুই দলেই সবসময় দেখা যায় নুরুল হাসান সোহানকে। এবারে তিনি টোকেন তোলেননি অর্থাৎ খেলবেন আগের দলেই। অবনমন না থাকায় এবারে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সে নেই কোনো তারকা ক্রিকেটার। তারা দল গড়েছে রুয়েল মিয়া, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, আসাদুজ্জামান পায়েলদের মতো মাঝারি মানের ক্রিকেটারদের নিয়ে। টাকা না দেওয়ার দুর্নাম আছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের। তবুও প্রতিবছরই তাদের দলে নাম লেখান দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ক্রিকেটাররা। শফিকুল ইসলাম, মোহর শেখ, রানা শেখ, নাজমুল ইসলাম অপু, নাইম হাসানরা শেষ পর্যন্ত টাকা পাবেন কি না সেটাও প্রশ্ন। তামিম ইকবালের গুলশান ক্রিকেট ক্লাবও নিয়েছে উঠতি ক্রিকেটারদের। বিশাল চৌধুরি, তানভির হাসান, মুসাব্বির হোসেন মুনরা প্রিমিয়ারের দলে নাম লিখিয়েছেন নিচের দিকের লিগগুলোর দল থেকে।
এবারে বিসিবি দলপ্রতি দিচ্ছে ২৫ লাখ টাকা, সঙ্গে আবাসন, দুপুরের খাবার ও জার্সি। যেহেতু রেলিগেশন নেই আর সিঙ্গেল লিগ, বিদেশিও নেই তাই বড় দুই তিনটা দল বাদে বেশিরভাগ দলই কইয়ের তেলে কই ভাজার মতো বিসিবির দেওয়া টাকাতেই দল গড়ছে। বড় নাম নেই মানে মোটা টাকাও নেই। মোহামেডানে মুশফিকুর রহিম ৪ ম্যাচের জন্য নিয়েছেন ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এই বাজেটের ধারেকাছে কমপক্ষে ৭-৮টা দল পুরো মৌসুমের খেলোয়াড় সই করিয়েছে।
