সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ইরান

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১২ এএম

যুদ্ধবিরতিতে দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ইরান। বিশেষ করে ড্রোন ও মিসাইলের মজুদ বাড়াচ্ছে তেহরান। বর্তমানে এই মজুদ গড়ার গতি যুদ্ধপূর্ব সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি। সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুনর্গঠনের ভিডিও ফুটেজসহ এক বার্তায় তিনি এই তথ্য জানান। জেনারেল মুসাভি বলেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়ে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (লঞ্চ প্ল্যাটফরম) হালনাগাদ এবং পুনরায় পূর্ণ করার গতি আগের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে, শত্রুপক্ষ নিজেদের জন্য এমন অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে অক্ষম এবং তারা বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে ধাপে ধাপে গোলাবারুদ আনতে বাধ্য হচ্ছে।’ ইরানের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরাজিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা যুদ্ধের এই পর্যায়েও হেরেছে! তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, একই সঙ্গে লেবানন ও এই অঞ্চলেও তাদের পরাজয় হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে গেছে আইআরজিসির জেনারেলের এই দাবি। গত বছর জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংসের দাবি করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবারও একই ধরনের দাবি করেছেন। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও নিজের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ভা-ার খুঁড়ে লঞ্চার প্যাড বের করে তা আবার সচল করে তুলছে ইরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এতে ইরান ব্যাপক মাত্রায় অবকাঠামোগত ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। তবে প্রযুক্তি ও নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে ইরান। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য একের পর এক হামলা চালাতে থাকে তেহরান। দেশটির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তটস্থ হয়ে উঠে পুরো অঞ্চল। আর যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে তেলের দাম। সমর বিশ্লেষকদের মতে, দৃশ্যত ইরান অধিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও, কৌশলগতভাবে এই যুদ্ধে তেহরানই এগিয়ে রয়েছে। এমনকি ইরানের হাতে এখনো যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে, তা দিয়ে দেশটি এখনো ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় দেশগুলোয় দীর্ঘমেয়াদে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত