সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের ওপর আপাতত শুনানি হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করবে। ওই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই রিটের শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য ৯৬ নম্বর ক্রমিকে ছিল। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
জানা গেছে, এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন হয়। এরই মধ্যে সচিবালয়ে কিছু লোকবল নিয়োগসহ অবকাঠামোগত কাজও শুরু হয়। গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের ১৮৫ পৃষ্টার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী গত রবিবার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুলের আরজি জানান আইনজীবীরা। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টকে বলেছে আগামীকালের (আজ) মধ্যে আপিল করবে। আদালতের প্রত্যাশা এরই মধ্যে সচিবালয়ের যে স্থাপনা আছে, সেগুলোকে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে যেন সরিয়ে ফেলা না হয়।’
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমরা আদালতকে বলেছি যে আগের একটি মামলা আপিল বিভাগে দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। সেটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নতুন রিটের শুনানি সমীচীন হবে কি না, তা বিবেচনার বিষয়। আমরা শিগগির আপিল করব।’