মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট সংশয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রভাবে এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোতে মুদ্রার মানে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে অস্থিরতা তীব্রতর হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া থাকায় বুধবার (২২ এপ্রিল) মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়াহর মান রেকর্ড পরিমাণ কমে ১৭ হাজার ৩১৫-তে দাঁড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত রুপিয়াহর মান ৩ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ভারতীয় রুপির পর এটিই বর্তমানে এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পারফর্ম করা মুদ্রা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার কারণে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে চড়া রয়েছে। এর ফলে এশিয়ার নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মুদ্রার এই নজিরবিহীন পতন ঠেকাতে বুধবার জরুরি বার্তা দিয়েছে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি জানিয়েছে, বর্তমানে রুপিয়াহর যে মান তা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম। দেশের মুদ্রা রক্ষা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা ‘সর্বশক্তি নিয়োগ’ করার অঙ্গীকার করেছে। প্রয়োজনে নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনে রুপিয়াহকে শক্তিশালী সমর্থন দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে অন্যান্য দেশেও মুদ্রার দরপতন অব্যাহত রয়েছে। ফিলিপাইনে দেশটির মুদ্রা ‘পেসো’র মান কমে প্রতি ডলার ৬০.৫২৪-এ দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের মুদ্রা থাই 'বাত'-এর মান কমে প্রতি ডলারে ৩২.৪৪-এ নেমেছে, যা গত ৮ এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম।
সূত্র: আল-জাজিরা