দারাজে বিজ্ঞাপন দিয়ে মাদক বিক্রি, গ্রেপ্তার ১

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৮ এএম

অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজে 'সিবিডি অয়েল' বা সুগন্ধি তেলের নামে নিষিদ্ধ টিএইচসি (গাঁজার তরল উপাদান) মাদক বিক্রির অভিযোগে আনিসুর রহমান নামের এক কেমিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। 

এই ঘটনায় সোমবার (১৭ আগস্ট) দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে রাজধানীর বাড্ডা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিজিটাল বা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক বিক্রির নতুন সংশোধিত আইনে এটিই দেশের প্রথম মামলা।

এর আগে রোববার বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। তার বাসা থেকে ৬২০ মিলিলিটার টিএইচসি (মাদক) উদ্ধার করা হয়। ডিএনসির হিসাবে উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাদক প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম, ৫০টি ছোট কাচের বোতল, দারাজের লোগোযুক্ত পলিথিন প্যাকেট, কম্পিউটার ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএনসি সূত্র বলছে, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচার বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এই সংশোধনীর পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক বিক্রির অভিযোগে এটি প্রথম মামলা।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি অয়েল’ নামে একটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে— এমন তথ্য পেয়ে বিষয়টি যাচাই করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরে কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে ওই পণ্য অর্ডার করেন। দারাজের ডেলিভারি কর্মীর মাধ্যমে পাওয়া তরল পদার্থের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় ওই তরলে উচ্চমাত্রার টিএইচসি বা গাঁজার প্রধান উপাদান পাওয়া যায়।

‎মামলার এজাহার অনুযায়ী, তিনটি কাচের বোতলে ২০ মিলিলিটার করে মোট ৬০ মিলিলিটার টিএইচসির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ আগস্ট বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে রমনার সেগুনবাগিচা তোপখানা রোডের নকশী টাওয়ারের সামনে ওই পার্সেল নিয়ে আসেন দারাজের পণ্য সরবরাহকারী কর্মী মো. নাঈম (২০)।

পরে নাঈমের সঙ্গে থাকা খাকি রঙের পার্সেল তল্লাশি করে পলিথিনে মোড়ানো তিনটি কাচের বোতল পাওয়া যায়। এসব বোতলে মোট ৬০ মিলিলিটার টিএইচসি ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম জানান, তিনি বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে পার্সেলটি সংগ্রহ করেছিলেন। পার্সেলের ভেতরে মাদক ছিল, তা তিনি জানতেন না। কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি শুধু পার্সেল পৌঁছে দিতে এসেছিলেন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়নি।

‎নারকোটিক্সের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান সমকালকে বলেন, দারাজে বিক্রি করা পণ্যে মাদক পাওয়ার পরই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। রোববার বিকালে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকর একটি ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে মজুত বিপুল পরিমান সিবিটি অয়েল ও উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় কারখানার মালিক এবং দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, আনিসুর রহমান পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে দারাজসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে টিএইচসি বিক্রি করে আসছিলেন। তিনি মাদককে ‘সিবিডি অয়েল’ বা ‘অ্যারোমেটিক অয়েল’ নামে বিক্রি করতেন। দারাজের মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪০৫ বোতল টিএইচসি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আনিসুর রহমান পেশায় একজন কেমিস্ট। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি জাপানে যান। পরে দেশে ফিরে হাতে তৈরি সাবান ও সুগন্ধি পণ্য তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। একপর্যায়ে সেই ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন।

মামলার এজাহারে দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও আসামি করা হয়েছে। ডিএনসি মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, ‘দারাজ যাচাই–বাছাই না করে এ মাদক বিক্রি করে আসছিল। অনলাইন ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা আইনগত অপরাধ। অনলাইনে মাদক কেনাবেচা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত