রাজধানীর শাহবাগে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষে ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানা চত্ত্বরে এই হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য। তবে এই হামলা চলাকালে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
এর আগেও, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা এবং রাতে দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর ও হেনস্থা করা হয়।
আহত সাংবাদিকরা হলেন- ডুজা সভাপতি কালের কন্ঠের মানজুর হোছাঈন মাহি, ডুজা সেক্রেটারি আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসান, অর্থ সম্পাদক ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন, রাইজিং বিডির সৌরভ ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান। তাদের মধ্যে ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখে এবং মুখে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। বর্তমানে সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি লিটন ইসলাম ও সিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসুতে নির্বাচন করা আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ফেসবুক পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরূচিপূর্ণ বক্তব্য ছিলো। তবে আবদুল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে একটি পোস্টও দিয়েছিলেন। তবে এতেও ক্ষান্ত হননি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ফলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি দিলে তিনি সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহবাগ নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে যান। তার সঙ্গে অমর একুশে হল ছাত্র সংসদের জিএস উবায়দুর রহমান হাসিবসহ আরো দুইজন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, সংবাদ সংগ্রহের সময় জাগোনিউজের ঢাবি প্রতিনিধি ফেরদৌস ও রাইজিংবিডির সৌরভ ইসলাম ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী বাধা প্রদান করে। এর প্রতিবাদ জানান মানজুর হোছাঈন মাহি।
এ সময় ছাত্রদলের সাবেক সহ-স্কুল সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান সামিথ মাহিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। তখন মাহি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিলে তিনি অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন।
এ সময় ফেরদৌসসহ আরো কয়েকজন সাংবাদিক মাহিকে বাঁচাতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের থানার বারান্দা থেকে ধাক্কা দিতে দিতে থানা চত্ত্বরে নিয়ে আসে। এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘শিবির-সাংবাদিক একসাথে চলে না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এর কিছু সময় পর অন্য সাংবাদিকরা থানায় উপস্থিত হলে সামিথ এসে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর কিছুক্ষণের মধ্যে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারী ইফাত হঠাৎ এসে বলতে থাকেন, ‘এই ভাইরে মারছে, ভাইরে মারছে’ বলে মব সৃষ্টি করেন। তখন আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলে পড়েন। এসময় পুলিশকে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
আবুজার গিফারীর নেতৃত্বে হামলায় অংশ নেয় ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের নেতা সুলায়মান হোসেন রবি, সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খান, সূর্য সেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সদস্য কারিব চৌধুরী ও জাহিন ফেরদৌস জামি, কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের নেতা মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিতুর রহমান পিয়াল, নেতা হাসানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম অনিক, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফ খানসহ সংগঠনটির অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পর ওবায়দুর রহমান সামিথ মানজুর হোছাঈন মাহিকে ফোন দিয়ে বারবার দুঃখ প্রকাশ করতে থাকেন। এ সময় অন্যান্য সাংবাদিকরা এই ঘটনায় তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আগে মাহির সঙ্গে কথা বলে আপনাদের সাথে ৩০ মিনিট কথা বলবো।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। বিষয়টা আমি শুনেছি। দেখছি আমি।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে৷
১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত এশিয়ান টিভি 