২০২৩ সালের ৬ জুলাই, চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের মাঝপথেই অভিমানে ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণা দেন তামিম ইকবাল। সাবেক এই অধিনায়কের অবর্তমানে ওই সিরিজের বাকি ২ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন লিটন দাস পরে অবশ্য অভিমান ভেঙে ফিরেছিলেন তামিম। তবে ২০২৩ বিশ্বকাপে জায়গা না পেয়ে সে বছরের সেপ্টেম্বরে মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলে আবার ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান তামিম। তখনো ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন লিটন। আরেকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এবার তামিমের হাত ধরেই এই সংস্করণের পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব পেলেন তিনি।
গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসবি) পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বে আর রাখা হচ্ছে না মেহেদী হাসান মিরাজকে। বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন অধিনায়ক হিসেবে লিটনের নাম ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, ‘আমাদের তিন ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ক ছিল। আমি বিশ্বাস করি আমাদের দুজন অধিনায়ক থাকা উচিত, সাদা বল এবং লাল বলের জন্য। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে লিটন সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবে থাকবেন এবং নাজমুল হোসেন শান্ত লাল বলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। সাদা বলের সহ-অধিনায়ক হবেন তাওহীদ হৃদয়।’
লিটন অনেকদিন ধরে টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্বে আছেন। এবার ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডের নেতৃত্বও উঠল তার কাঁধে। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের পরিসংখ্যান মন্দ নয়। ১৩ মাস আগে দায়িত্ব নিয়ে ২০টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন এই অলরাউন্ডার। এর মধ্যে ১০টি ম্যাচে জয় পায় দল। তবে তার অধিনায়কত্বের শুরুটা সহজ ছিল না তার। প্রথম ছয় ওয়ানডের মধ্যে পাঁচটিতেই হারে বাংলাদেশ, পাশাপাশি টানা দুটি সিরিজ হাতছাড়া করে। পরে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নিজেদের মাঠে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ দল। এই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারায় স্বাগতিকরা। তবে সর্বশেষ জিম্বাবুয়েতে পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয় মিরাজদের।
অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের সাফল্য স্বীকার করে তামিম বলেন, ‘মিরাজ একজন অত্যন্ত সফল অধিনায়ক। গত পাঁচটি সিরিজের মধ্যে চারটি জিতেছে। কিন্তু আমি মনে করি মিরাজকে একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের বেশি প্রয়োজন। পারফরমার হিসেবে তাকে যে পর্যায়ে দেখতে অভ্যস্ত, সেখানে হয়তো কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে সে ভালো করলেও বোলিংয়ে উন্নতির দরকার।’
বিপিএল নিয়ে ভাবনা : গতকালের বোর্ড সভায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসন্ন মৌসুম নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করেনি বিসিবি। বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, বিপিএল নিয়ে এখন কোনো ভাবনা নেই তাদের। তামিম বলেন, ‘বিপিএল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি আগেও বলেছি, শুধু করার জন্য বিপিএল করব না। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই ঠিকভাবে আয়োজন করার। তবে ভবিষ্যতে যখন করব, তখন সব কিছু ব্যবস্থাপনা করেই করব।’
পূর্বাচলে হবে স্টেডিয়াম : ২০৩১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে আয়জনের জন্য পূর্বাচলে একটা স্টেডিয়ামের নাম প্রস্তাব করা আছে আইসিসিতে। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর সেখানে স্টেডিয়ামের ভাবনা থেকে সরে আসে পরবর্তী বোর্ড। তবে নতুন করে আবার পরিকল্পনা করেছেন তামিম। এ জন্য বর্তমান সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্যও চাওয়া হবে বলে জানান তিনি। গতকালের সভা শেষে তামিম বলেন, ‘স্টেডিয়ামের জন্য আমাদের সরকারি তহবিলের প্রয়োজন হবে। ২০৩১ সালে বাংলাদেশে পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আছে, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রীড়া আসর। পূর্বাচল স্টেডিয়াম সেই দরপত্র প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি এবং দ্রুতই অর্থায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’
ছয় মাস পর রিভিউ : এখন থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পারফরম্যান্স সিরিজ ধরে ধরে মূল্যায়ন করবে না বিসিবি। হার-জিতের হিসাব নেবে প্রতি ছয় মাস পরপর। এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে সফরের পর আমি কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের একটি ছয় মাসের পরিকল্পনা দিতে বলেছি। বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, সেটি কমিয়ে আনতে হবে। এক সিরিজ জিতলে বোনাস দেওয়া আর হারলে প্রশ্ন করা, এই সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হতে চাই। ছয় মাস পর আমরা পর্যালোচনা করব, কতটুকু অর্জন হয়েছে।’
