ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশে চলছে আইপিএল আর পিএসএল, যেখানে আড়াইশ রানও নিরাপদ থাকছে না। টি-টোয়েন্টির এই ভরা মৌসুমে, যখন বিশ্বের সেরা সব ক্রিকেটার নানান ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সিতে একে অন্যের মুখোমুখি, তখন ভরদুপুরে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। একটা দল গত বিশ্বকাপে খেলেনি, আরেকটা দল সেই আসরের রানার্স আপ তবে বাংলাদেশ সফরে তারা এসেছে সেরা সব ক্রিকেটারদের ছাড়াই। ক্রিকেটের সঙ্গে প্রবল জাতীয়তাবোধ না থাকলে, কর্মদিবসের দুপুরেবেলা মাঠে কিংবা টিভিতে এই খেলা দেখার কারও কোনো আগ্রহই থাকার কথা নয়।
তারপরও যে কয়েকজন এই ম্যাচে চোখ রাখবেন, তাদের অবাক করবে বাংলাদেশ দলের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান সুপার লিগে ডাক পেয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন, চোটের কারণে তাকে ফিরতে হয়েছে মাঝপথেই। দেশে ফেরার আগে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে মুলতান সুলতানের বিপক্ষে ইনিংসের সূচনায় নেমে করেছিলেন ১৯ বলে ৪৫ রান। সেই ইমনকে জাতীয় দলে খেলানো হবে মিডল অর্ডারে! অধিনায়ক লিটন দাস রবিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘(ইমনকে) আপাতত মিডল অর্ডারে ভাবছি’। বিপিএলে ৩৯৫ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ইমনকে মিডল অর্ডারে নামিয়ে সূচনায় সাইফ হাসান, বিপিএলে ৯ ম্যাচে যার সংগ্রহ ১৩৩ রান এবং এর মধ্যে এক ইনিংসেই ৭৩! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্যসমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে সাইফের ব্যাটে চূড়ান্ত ব্যর্থতার ছাপ। প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্যে ৭৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে রানরেটটা মগডালে চড়িয়ে দলের হারের পথটা তৈরি করেছেন এই ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। পরের দুটো ম্যাচে করেছেন ৮ ও ০, আগেভাগেই আউট হয়ে সতীর্থদের ওপর চাপ বাড়াননি। বাংলাদেশও জিতেছে।
এশিয়া কাপে দুটি ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে একটি হাফসেঞ্চুরি করে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের মাসখানের মধ্যেই সহ-অধিনায়কের পদ পেয়ে যাওয়া সাইফ দ্রুতই ফর্ম হারিয়ে সংগ্রাম করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, তাকে অনেক আশা নিয়ে সরাসরি সই করিয়ে ডুবেছে ঢাকা ক্যাপিটালসও। অথচ লিটনের আস্থা এখনো তার ওপরই, ‘আমার কাছে মনে হয় না খুব একটা বড় চিন্তা তাদের ফর্ম নিয়ে। যদিও বা অনেকদিন পরে আবার টি-টোয়েন্টি খেলছি, আমাদের সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং থাকবে। সবাই পারফরম্যান্স করার চেষ্টা করবে। আমার মনে হয় কয়েকটা ম্যাচ গেলে এই জিনিসটা ওভারকাম হয়ে যাবে’। লিটন হয়তো ভুলে গেছেন, এই বছর বাংলাদেশ খেলবেই মাত্র ৯টি টি-টোয়েন্টি!
দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরে ভালো না করা সাইফ যেমন আছেন, তেমনি বোলিংয়ে ভালো করে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দুই তরুণ তুর্কিও এবার সুযোগ পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি দলে। নাহিদ রানা ও
মোস্তাফিজুর রহমান নেই টি-টোয়েন্টি দলে। তাদের বদলে সুযোগ হয়েছে রিপন ম-ল ও আব্দুল গাফফার সাকলায়েনের। লিটন মনে করছেন, এতে করে অভিজ্ঞদের বিশ্রাম আর নতুনদের পরখ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, ‘বোলারদের ক্ষেত্রে জিনিসটা খুবই সহজ যে রোটেট করে খেলানো। যে দুজন নেই, তারা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ। আমি চাই না তারা ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলে ইনজুরি করে শেষ হয়ে যাক। সামনে আমাদের ওয়ানডে ফরম্যাটে অনেক ম্যাচ আছে। টেস্টও আছে। এদিক থেকে চিন্তা করেই আমরা কিছু কিছু জিনিসের পরিবর্তন করা শুরু করেছি। যেহেতু বিশ্বকাপ অনেক দেরি, এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে নিজেদের উন্নতি করার। ম্যাচ খেলানোর একটা ভালো সুযোগ এই মুহূর্তে’। লিটন ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, ‘আমার সব বোলারই খুবই ভালো। যদি দেখেন মোস্তাফিজ তো মোস্তাফিজই, তার জায়গা পূরণ করাটা খুবই কঠিন। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে, যেদিন মোস্তাফিজ খেলবে না, কোনো কারণে চোটগ্রস্ত হয়ে গেলে কোনো না কোনো ক্রিকেটারকে তো খেলতে হবে। ওই চেষ্টাটা করেই আমরা কিন্তু এই দলটা তৈরি করার চেষ্টা করছি।’ চট্টগ্রামের সাগরিকা স্টেডিয়ামে হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডে। ম্যাচে লিটন নিজেও করেছেন হাফসেঞ্চুরি, উইকেট সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ, ‘উইকেট দেখেছি। উইকেট দুই দলের জন্যই সমান থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না বল খেলা হচ্ছে বলতে পারছি না, কিন্তু দেখে মনে হয়েছে ভালো উইকেট হবে। নতুন যে কিউরেটর আমাদের প্রোভাইড করছে, খুব ভালো ভালো উইকেট পাচ্ছি অনেকদিন ধরে। আশা করছি এটাও ভালো উইকেট হবে।’
যে বিশ্বকাপটা বাংলাদেশ খেলেনি, সেই আসরে নিউজিল্যান্ড রানার্স আপ। তবে সেই দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই ব্যস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলতে, তাদের বদলে যারা এসেছেন তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতার ওপরই আস্থা রেখেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম, ‘আমার মনে হয় এই দলটাও অনেকটা ওয়ানডের দলের মতোই। আমাদের দলের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা হয়তো কম। তবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের অভিজ্ঞতা অনেক। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা কম হলেও, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে তারা যে অভিজ্ঞতা পেয়েছে, সেটি কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।’
