জোড়া হারের পরও এশিয়ান বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ পুনরুদ্ধারের সান্ত্বনা সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের। ১৪ বছর পর ব্রোঞ্জপদক ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। অথচ ভালো সুযোগ ছিল পদকের রঙ বদলের। নেপালের কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরে সে সুযোগ হাতছাড়া হয়। পরে সেমিফাইনালে প্রবল প্রতিপক্ষ ভারতের কাছে হারে শেষ হয় শ্রাবণীদের অভিযান।
চীনের সানিয়ায় বাংলাদেশের মেয়েদের রবিবার সকালে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের কাছে ৩৮-৩৬ পয়েন্টে হারতে হয়। তাতে সেমিফাইনালে এড়ানো যায়নি ভারতকে। বিকেলে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ, হেরেছে ৫০-৩১ পয়েন্টে। দুই হারের পরও অবশ্য পদকটা ঠিকই জুটেছে। গেমসের নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে গেলেই পদক পাওয়া নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ সেমিফাইনালের হেরে যাওয়া দু’দলই পায় ব্রোঞ্জ পদক।
তারপরও এই পদকের গুরুত্ব অনেক। ২০১২ সালে নারী কাবাডি দল দেশকে সর্বশেষ পদক এনে দিয়েছিল। চীনের হাইয়াংয়েও মিলেছিল ব্রোঞ্জ। এরপর ২০১৪ ও ২০১৬ সালে গ্রুপের বাধা পেরুতে পারেনি নারী কাবাডি দল। তাই পদকও জুটেনি বাংলাদেশের।
ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালটা প্রথমার্ধে বেশ ভালোই ছিল। ২২-১৫ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভারতকে রুখতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে একতরফা খেলে বাংলাদেশকে ছিটকে দেয় ভারত। সহজেই জিতে নেয় ম্যাচটা।
সেমিফাইনালে উঠলেই ব্রোঞ্জ নিশ্চিত এটা নিয়মের কথা। কিন্তু শুধু নিয়মের কারণে পদক এলে গল্পটা এত মনে থাকত না। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউটে পৌঁছানো পর্যন্ত দলটা যেভাবে খেলেছে, সেটাই এই ব্রোঞ্জকে একটু বেশি দামি করে তুলেছে।
নারী কাবাডিতে বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, এই পদক তারই প্রতিফলন। পুরুষ কাবাডি অবশ্য উল্টোরথের যাত্রী। তারা এবারও পারেনি সেমিফাইনালে পৌঁছাতে।
