নাটোরের গুরুদাসপুরে সাত বছরের এক শিশুকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় শিশুটি আদালত সশরীরে হাজিরা দিয়ে জামিন নেওয়ার ঘটনায় আদালতপাড়া ও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার নথিতে দেখা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুর নাম অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে আদালতে জামিন আবেদন করা হলে নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শামীম হোসেন জানান, গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা এলাকায় গত ৯ এপ্রিলে পূর্ববিরোধের জেরে হামলা ও সংঘর্ষে কয়েকজন আহত করার অভিযোগ ওঠে। পরে ১০ এপ্রিল গুরুদাসপুর থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়। এ মামলায় একাধিক ব্যক্তির নামের সঙ্গে ওই এলাকার শাজাহান আলীর ছেলে মো. হুসেন নামে সাত বছর বয়সী শিশুটির নামও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির জন্মসাল ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ হওয়ায় বর্তমানে তার বয়স সাত বছর। মামলায় এই শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। সবার একই প্রশ্ন এত ছোট বয়সের একটি বাচ্চাকে কীভাবে হামলা বা সংঘর্ষের মামলায় আসামি করা হলো। আইনজীবীরা বলেন, ফৌজদারি মামলায় অভিযোগকারী পক্ষ অনেক সময় বিরোধের জেরে পরিবারের সব সদস্যকে একসঙ্গে আসামি করে থাকে। তবে কোনো শিশুর নাম যুক্ত হলে তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
