১০ কেজি গাঁজা নিয়ে ধরা, ১ লাখ টাকা নিয়ে ছেড়ে দিলেন দুই পুলিশ!

১০ কেজি গাঁজাসহ ধরা পড়া মাদক ব্যবসায়ীকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ; ভাগ গেছে ৫ জনের কাছে! সিসিটিভি ফুটেজে প্রকাশ পেলেও সাংবাদিককে দেখিয়ে নেওয়ার হুমকি অভিযুক্ত এএসআইয়ের।

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের পর ১ লাখ টাকা এবং দুই কেজি গাঁজার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন-কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম এবং একজন কনস্টেবল। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে একটি ট্রলি ব্যাগে ১০ কেজি গাঁজা নিয়ে মানিকগঞ্জে যাচ্ছিলেন এক মাদক ব্যবসায়ী। তিনি কদমতলীর তানাকা পেট্রোল পাম্প অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে হ্যান্ডকাফসহ সাদা পোশাকে দুই ব্যক্তি নিজেদের ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করেন। পরে ওই ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১ লাখ টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাগ থেকে ২ কেজি গাঁজাও রেখে দেন ডিবি পরিচয়ে আসা ওই দুই ব্যক্তি।

তবে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবি পুলিশের কদমতলী অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে কদমতলী এলাকায় তারা কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি। পরবর্তীকালে কদমতলী ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডিবি পরিচয়ে টাকা আদায় করা ব্যক্তিরা ডিবি সদস্য নন; তাদের একজন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার এএসআই জাহিদুল ইসলাম এবং অন্যজন একই থানার একজন কনস্টেবল।

অভিযোগের বিষয়ে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ দেখানোর পর সত্যতা স্বীকার করেন এএসআই জাহিদুল ও ওই কনস্টেবল। তারা জানান, মডেল থানার অপর এএসআই নাসিরের পরিকল্পনা ও দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা এ কাজ করেছেন। ১ লাখ টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা মানলেও ২ কেজি গাঁজা রাখার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন।

এএসআই জাহিদুল আরও প্রকাশ করেন, আদায় করা ১ লাখ টাকা মোট ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) মোট ৫ জন মিলে সেই টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করা এবং যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার জন্য দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান অভিযুক্তরা। সাংবাদিক তাদের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে স্পষ্ট বক্তব্য চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তবে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিমুল হক। তিনি জানান, পুরো অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত