যুক্তরাষ্ট্রের শুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৩ এএম

‘অতি উৎপাদন’ ও ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বিষয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি তদন্ত শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। তদন্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত সামনে না এলেও এ নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরতে এখনো শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ পায়নি বাংলাদেশ। সময় সাপেক্ষে দেশের পক্ষ থেকে অতি উৎপাদন ও জোরপূর্বক শ্রম বিষয়ে আলাদা আলাদা অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ইউএসটিআর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১- এর অধীনে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে অতি উৎপাদন ও জোরপূর্বক শ্রম বিষয়ে তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো এসব দেশের বাণিজ্যনীতি ও উৎপাদনব্যবস্থা বিশ্ববাজারে এমন কোনো অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করছে কি না, যা মার্কিন উৎপাদন খাতের ক্ষতি করতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, চলতি মাসের শেষ ভাগে শুনানি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে গেছে, যা আগামী মাসের প্রথমভাগেই শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআরের সঙ্গে এই শুনানি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে এই শুনানির প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সময় বেশি পাওয়ায় আরও বেশি যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আব্দুর রহিম জানান, আমরা এখনো সুনির্দিষ্ট তারিখ পাইনি। তবে এখনো প্রস্তুতি নিচ্ছি।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শুনানির প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইতিমধ্যেই কয়েকটি বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা বা উৎপাদনের প্রবণতা নেই। একই সঙ্গে শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সে অনুযায়ী এখন দুই তদন্তের শুনানিতে উপস্থাপনের জন্য পজিশন পেপার বা অবস্থানপত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অতি উৎপাদন ও জোরপূর্বক শ্রম বিষয়ে আলাদা আলাদা শুনানিতে বাংলাদেশের সুষ্ঠু অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানানো হবে।

গত ১১ মার্চ উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।

দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআর জানায়, তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, পদক্ষেপ বা উৎপাদন কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না, এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূলত তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট খাতের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটি তদন্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মূলত তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল নিজেদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মার্কিনিদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বাজারে ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ।

গত বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরবর্তী পর্যালোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। চলতি বছর তা আরও কমে ১৯ শতাংশে নির্ধারণ করে।

তবে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এ পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। এই রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরদিন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। শুল্ক হার কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত