আত্মাকে কলুষিত করে হিংসা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

মানুষের অন্তরে লুকিয়ে থাকা সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগগুলোর অন্যতম হিংসা। অন্যের সাফল্য, সৌন্দর্য, সম্পদ বা মর্যাদা দেখে মনে কষ্ট পাওয়া এবং তা তার কাছ থেকে চলে যাক, এমন কামনা করাই হিংসা। এটি একটি খারাপ অনুভূতি এবং আল্লাহর বণ্টনের ওপর অসন্তুষ্টির একটি রূপ, যা মানুষের আত্মাকে ধীরে ধীরে কলুষিত করে।

হিংসার আরবি শব্দ ‘হাসাদ’। এটি এমন এক মানসিক ও আত্মিক ব্যাধি, যা মানুষকে শান্ত থাকতে দেয় না এবং অন্যের ভালোকে নিজের কষ্টের কারণ বানিয়ে ফেলে। হিংসুক ব্যক্তি নিজের অবস্থার উন্নতি চাইতে গিয়ে অন্যের ক্ষতি কামনা করে, আর এখানেই এর ভয়াবহতা। কারণ ইসলাম শুধু নিজের উন্নতি নয়, অন্যের কল্যাণ কামনাকেও নৈতিকতার অংশ হিসেবে দেখে।

কোরআন ও হাদিসে হিংসাকে অত্যন্ত নিন্দা করা হয়েছে। কোরআনে হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিংসাকে এমন এক রোগ হিসেবে সতর্ক করেছেন, আগুন যেমন শুকনো কাঠকে ভস্ম করে, তেমন হিংসা নেকিগুলোকে গ্রাস করে ফেলে। এ থেকে বোঝা যায়, হিংসা ইমান ও নৈতিকতার জন্য ক্ষতিকর।

হিংসার ইতিহাস খুবই পুরনো। মানবজাতির প্রথম দিকের বড় অপরাধগুলোর মূলে হিংসা কাজ করেছে বলে বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়। হিংসা মানুষকে সত্য গ্রহণে বাধা দেয়, ভালো কাজ থেকে দূরে সরায় এবং অন্যের সাফল্যকে নিজের ব্যর্থতার মতো অনুভব করায়। ফলে হিংসুক ব্যক্তি মানসিক অশান্তি, সম্পর্কের ভাঙন, চরিত্রের অবনতি এবং আত্মিক দুর্বলতার মধ্যে পড়ে যায়।

হিংসার দুটি রূপ। প্রথমটি হলো প্রকৃত হিংসা, যেখানে অন্যের নেয়ামত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কামনা থাকে, এটি নিন্দনীয় ও হারাম। দ্বিতীয়টি হলো গিবতা, যেখানে অন্যের নেয়ামত নষ্ট হোক এমন ভাবনা থাকে না। বরং নিজের জন্যও তেমন কল্যাণ কামনা করা হয়। এই পার্থক্য জানা খুব জরুরি, কারণ অনেক সময় মানুষ হিংসা ও গিবতাকে গুলিয়ে ফেলে। হিংসার ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিকও। হিংসুক ব্যক্তি অন্যের সাফল্যকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না, ফলে তার মধ্যে বিদ্বেষ, সন্দেহ, অপবাদ এবং সম্পর্ক নষ্ট করার প্রবণতা তৈরি হয়।

হিংসা থেকে বাঁচার জন্য অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা জরুরি। এর জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, কৃতজ্ঞ হওয়া, অন্যের নেয়ামতে আনন্দিত হওয়া, নিজের নেয়ামত নিয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং দোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, সন্তুষ্টি ও আত্মসমালোচনার গুণ মানুষকে হিংসা থেকে দূরে রাখে। একজন প্রকৃত মুমিন অন্যের সফলতায় খুশি হয় এবং নিজের উন্নতির জন্য পরিশ্রম করে, কারও ক্ষতি কামনা করে না।

লেখক : শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত