বাংলাদেশে কৃষি যন্ত্রপাতি রপ্তানি করতে চায় পাকিস্তান

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৪ এএম

প্রাণিসম্পদ ও কৃষিশিল্পে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে আগ্রহের কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল সোমবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এ প্রস্তাব দেন। সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, উন্নত জাতের গরুর সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের গরুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল ইক্ষুসহ চিনি উৎপাদনে পাকিস্তান বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আগ্রহী হলে পাকিস্তান আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি রপ্তানি করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কৃষি খাতে অনেক মিল রয়েছে। বাংলাদেশও কৃষি খাতকে রপ্তানিমুখী করতে চায়। এজন্য দেশের কৃষিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল ফসল ও আধুনিক চাষাবাদব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সারা বছরই আনারস উৎপাদন হয়, যা স্বাদে এবং গুণগত মানে অনন্য। তিনি পাকিস্তানকে বাংলাদেশ থেকে আনারস আমদানির বিষয়ে আহ্বান জানান। এছাড়া ব্লু ইকোনমি নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের গভীর সমুদ্রের সম্পদ বিশেষ করে মৎস্য আহরণের টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দেশের সহযোগিতায় মৎস্য সম্পদ জরিপ হয়েছে। এ বিষয়ে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য মন্ত্রী হাইকমিশনারকে আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, পাকিস্তান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে। বাংলাদেশ আগ্রহী হলে তার দেশ থেকে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি রপ্তানি সম্ভব।

পাকিস্তান বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান হাইকমিশনার। এ ছাড়া পাকিস্তানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃষি ও ভেটেরিনারি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। দুই দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ইনস্টিটিউট এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সম্ভাবনার কথাও হাইকমিশনার জানান।

পাকিস্তানে উন্নত জাতের গরুর সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমে দেশি গরুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব উল্লেখ করে এ বিষয়ে কাজ করতে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান। এ ছাড়া পাকিস্তানে উৎপাদিত চাল, মেইজ, তুলা, ইক্ষু ও বিভিন্ন প্রজাতির ফল বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে জানিয়ে বলেন, উচ্চ ফলনশীল ইক্ষুসহ চিনি উৎপাদনে তার দেশ বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত