অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে তামাকের কর বাড়বে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৫ এএম

উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়ন জোরদার করতে হবে। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানোর নানা পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে তামাক পণ্যের দাম ও কর বাড়ানো হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টারস ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাক পণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, কর বাড়ানোর চেয়ে করের আওতা সম্প্রসারণে সরকার জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি অনুযায়ী, দেশের ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো কর কাঠামোর বাইরে রয়েছে। এ খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, তামাক পণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে তামাক পণ্যের দাম এমনভাবে বাড়াতে হবে, যা মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি কার্যকর হয়।

কর্মশালায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মো. মশিউর রহমান বলেন, বিদ্যমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে। কার্যকর তামাক কর বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে ধূমপান কমবে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে তিন স্তরের নতুন মূল্য কাঠামো নির্ধারণ এবং সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা প্রয়োজন।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, বাজেটের আগে তামাক কোম্পানিগুলো কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ‘চোরাচালান বাড়বে’ এমন প্রচারণা চালায়, যা ভিত্তিহীন। বাস্তবে বাংলাদেশে সিগারেটের দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম।

বক্তারা জানান, দেশে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণের বেশি।

সভাপতির বক্তব্যে ডরপের প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান বলেন, প্রস্তাবিত কর ও মূল্যবৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে লাখো তরুণ ধূমপান করা থেকে বিরত থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অকালমৃত্যুও কমবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত