ভারত বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়োগের বিষয়টি জানিয়ে বলেছে, তিনি শিগগির নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
দীনেশ ত্রিবেদী হাইকমিশনার হিসেবে প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন। প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
ভারত ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়োগ দিয়েছে। গত ৫৪ বছরের চর্চায় ছেদ ঘটিয়ে এবারই প্রথম ঢাকায় হাইকমিশনের শীর্ষ পদে একজন রাজনীতিককে নিয়োগ দেওয়া হলো।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন সামাল দেওয়ার দিকটি বিবেচনায় রেখে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে একজন রাজনীতিককে নিয়োগ দিয়েছে। জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনের কিছুটা আগে থেকেই বাংলাদেশে ভারতবিরোধী আবহ বিরাজ করছিল। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ঢাকা ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপড়েন শুরু হয়। আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী উপায় অবলম্বনের অভিযোগে ঢাকায় একাধিক মামলায় এরই মধ্যে তার মৃত্যুদ-ের আদেশ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে তাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে চিঠি দিয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির সরকার গঠন এবং জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোটের আবির্ভাবের কারণে দিল্লির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের জন্য ঢাকার সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়া নতুনভাবে তৈরি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন বিন্যাসে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এসব কারণে পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন প্রবীণ রাজনীতিককে ঢাকায় হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
দীনেশ ত্রিবেদী প্রায় ৭৬ বছর বয়সী একজন রাজনীতিক। বিভিন্ন সময় ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। একসময় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদী তিস্তার পানি ভাগাভাগির বিষয়ে একটি অস্থায়ী চুক্তি করার বিষয়টি তৎকালীন মন্ত্রিসভা কমিটিতে আলোচনায় এলে ত্রিবেদী এ চুক্তির বিরোধিতা করেন। তিনি পরে জনতা দল হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি ভালো বাংলা জানেন।
