ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার জ্যোতির রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ রুলসহ এ নির্দেশনা দেয়।
অন্যদিকে প্রার্থিতা বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি এনসিপির মনিরা শারমিন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার।
ইসির এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মনিরা শারমিন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হবে এবং আইনের অস্পষ্টতার কারণে নারীদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন যেন অনিশ্চিত না হয়ে পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান তিনি।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২১ এপ্রিল বিকাল ৪টা এবং যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল ২২ ও ২৩ এপ্রিল।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী এবার বিএনপি জোট ৩৬ জন, জামায়াত জোট ১৩, আর স্বতন্ত্র জোটের একজনকে মনোনীত করে। তারা সবাই ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেন।
জামায়াত জোটের ১৩ জনের মধ্যে এনসিপির প্রার্থী ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে বাকি সবার মনোনয়নপত্র গৃহীত হলেও মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১)(চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরগ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন।
মনিরা শারমিন ২০২৩ সালে নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) পদে যোগ দেন এবং গত ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
তার মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বুঝতে পেরে এনসিপির পক্ষ থেকে ২১ এপ্রিল নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়। সেদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমার সুযোগ ছিল। কিন্তু জ্যোতির মনোনয়নপত্র জমা পড়ে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর। সে কারণে তা আর আমলে নেননি রিটার্নিং অফিসার।
পরে এর বৈধতা নিয়ে রবিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। অন্যদিকে মনিরা শারমিন প্রার্থিতা বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
গতকাল সোমবার সকালে মনিরা শারমিনের আপিল নাকচ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
অন্যদিকে হাইকোর্ট নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়।
এ দিন জ্যোতির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান ও জহিরুল ইসলাম মুসা।
