মৃত হাতিটির শুঁড়-পা কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় মারা যাওয়া ৬০ বছর বয়সী পুরুষ হাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এমন অমানবিক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

বন বিভাগ জানায়, রবিবার সকালে পুরুষ হাতিটির মরদেহ দেখতে পায় বনবিভাগের লোকজন। এরপর হাতিটির মৃত্যুর কারণ জানতে নমুনা সংগ্রহ এবং এটি মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় বনবিভাগ। কিন্তু সারাদিন ধরে সঙ্গী স্ত্রী হাতিটির কারণে বনবিভাগের সদস্যরা মৃত হাতির কাছে ঘেঁষতে পারেনি। সন্ধ্যা হয়ে গেলে একজন প্রহরী রেখে এলিফেন্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্যরা এলাকা ত্যাগ করেন। রাতের কোনো এক সময়ে সঙ্গী হাতিটিও চলে যায়। রাতে ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে ওই প্রহরী এলাকা ত্যাগ করেন। এরপরই দুর্বৃত্তরা মৃত হাতিটির শুঁড় ও পেছনের পায়ের মাংস কেটে নিয়ে যায়। সকালে মৃত হাতির ওপর চালানো এমন বিভৎসতা দেখে আঁতকে ওঠে এলাকাবাসীসহ বনবিভাগের লোকজন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ জানান, রবিবার সারা দিন সঙ্গী স্ত্রী হাতিটি মৃতদেহের পাশে থাকায় বন বিভাগের কর্মীরা কাছে যেতে পারেননি। রাতে ঝড়-বৃষ্টি এবং নিরাপত্তার কারণে মরদেহটি ফেলে রেখেই এলিফেন্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্যরা ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাতে সুযোগ বুঝে কে বা কারা হাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নিয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত গর্হিত ও অপরাধমূলক কাজ।

গতকাল বিকেল পাঁচটায় তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের টিম ভেটেরিনারি সার্জনসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা সংগ্রহের পর দ্রুতই হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়া হবে, যাতে মরদেহ আর কোনোভাবে বিকৃত করার সুযোগ না থাকে।

এর আগে রবিবার ধারণকৃত এক ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত পুরুষ হাতিটির পাশে থাকা তার সঙ্গী হাতিটিকে তাড়ানোর জন্য স্থানীয়রা পাথর নিক্ষেপসহ নানাভাবে বিরক্ত করছিল।

বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, রবিবার রাতে স্ত্রী হাতিটি বনে ফিরে যায়। এই সুযোগে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হাতিটির শুঁড় ও পেছনের একটি পা কেটে নিয়ে যায়। বন বিভাগের প্রহরী সকালে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান।’

শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘একজন প্রহরীর পক্ষে শত শত মানুষকে সামলানো সম্ভব নয়। রাতে নিরাপত্তার কারণে প্রহরী ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ নেয়। আমরা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের পরিচালক হেফাজত সবুজ বলেন, ‘এই ধরনের নৃশংস কাজ যারা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। এই কাজে বন বিভাগের অবহেলা ছিল। অতীতের অভিজ্ঞতায় তাদের সতর্ক থাকা উচিত ছিল যে, এভাবে হাতিটিকে রেখে গেলে কেউ না কেউ এর মাংস নিয়ে যেতে পারে। রাতব্যাপী হাতিটিকে পাহারায় রাখা প্রয়োজন ছিল।’

উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও সংক্রমণ নিয়ে গত রবিবার লংগদুর ভাসান্যাদাম এলাকায় হাতিটি মারা যায়। দাঁতবিহীন হাতিটিকে সুস্থ করে তুলতে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকরা গত ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত চিকিৎসা দিয়েছিলেন। কিন্তু হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত