রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি নিয়ে উত্তেজনা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি এবং তার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার উত্তাল ছিল রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে দুপুরে রুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় একদল শিক্ষার্থী। অন্যদিকে রাজনীতি চালু রাখার দাবিতে ক্যাম্পাসের গেটে অবস্থান নেয় শাখা ছাত্রদল। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গতকাল বিশ^বিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দুই পক্ষের অবস্থান কর্মসূচি বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ‘রুয়েট ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে গুপ্ত ও প্রকাশ্য রাজনীতি চলবে না’ এমন একটি ব্যানার টাঙানো হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে। রবিবার রাতে ব্যানারটি একদল শিক্ষার্থী খুলে পুড়িয়ে ফেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি জিয়া হলের সামনে গেলে সেখানে পাল্টা বিক্ষোভ শুরু করে হল শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে তিনটি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলোÑ ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে যারা রুয়েট ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বহিষ্কার; ২৪ সালের ১০ আগস্ট জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে বন্ধ হওয়া ছাত্ররাজনীতি কেন চালু হলো সে বিষয়ে প্রশাসনের জবাবদিহিতা এবং ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসে চলবে কি না তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নিতে ১০ দিনের মধ্যে গণভোট আয়োজন। তারা তিন দফা দাবি দ্রুত মেনে নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের একাংশের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে রুয়েটে গেট এলাকায় অবস্থান নেয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, ‘কিছুদিন ধরে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মব-সন্ত্রাস করা হচ্ছে। ছাত্রদল নিয়ে ফেসবুক পোস্ট দিলে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ছাত্রলীগ। তারা কোনোভাবেই চায় না ছাত্রদল সম্মুখে আসুক। এ ছাড়া রুয়েটে আইনের শিক্ষকরাজনীতি বন্ধের কথা থাকলেও ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কোনো নির্দেশনা নেই। এ কারণে তারা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চালু রাখতে চান।’

ক্যাম্পাস পরিস্থিতি সম্পর্কে রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের আলোকে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ রাখতে চান। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় ছাত্রদল রাজনীতি চালু রাখতে চান। আমরা বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত