বায়ার্ন-পিএসজি ৯ গোলের 'পাগলাটে, আক্রমণাত্মক, তীব্র' লড়াই

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক রাত দেখল ফুটবল বিশ্ব। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে পিএসজি। পার্ক দেস প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের ইতিহাসে এক লেগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে দলের রক্ষণ সামলানো ৩১ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক মার্কিনহোস ম্যাচটিকে এক কথায় 'পাগলাটে' বলে অভিহিত করেছেন "যেকোনো ফুটবল ভক্ত এই ধরণের ম্যাচ পছন্দ করবেন। এটি একটি পাগলাটে ম্যাচ ছিল। দুটি দলই সমানে সমান, আক্রমণাত্মক এবং তীব্র গতিতে খেলেছে।"

জয়ের স্বস্তি থাকলেও ৪ গোল হজম করা নিয়ে কিছুটা হতাশ পিএসজি অধিনায়ক। তিনি বলেন, "গোল হজম করা নিয়ে আমাদের কিছুটা হতাশা আছে, তবে এখনো এক গোলের ব্যবধানে আমরা এগিয়ে আছি।"

আগামী সপ্তাহের ফিরতি লেগ নিয়েও সতর্ক মার্কিনহোস। তার ভাষ্যমতে, "আগামী সপ্তাহেও এমন পাগলাটে লড়াই হবে। আমাদের একই মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে। এই ম্যাচটি আমাদের বেশ ক্লান্ত করে দিয়েছে, এখন বিশ্রাম প্রয়োজন।"

সেমিফাইনালের ৯টি গোলই ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর

১. হ্যারি কেইন (১৭ মিনিট, পেনাল্টি) – বায়ার্ন ১-০ পিএসজি

ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় বায়ার্ন। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাইকেল অলিসের পাস পান লুইস দিয়াজ, কিন্তু পিএসজি ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচো তাকে বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। বরাবরের মতো নিখুঁত শটে কেইন গোল করেন, যা এই মৌসুমে তার ৫৪তম গোল।

হ্যারি কেইন শুরু করেন পাগলাটে রাতের

২. কাভারাৎস্কায়া (২৪ মিনিট) – পিএসজি ১-১ বায়ার্ন

ডেজায়ার দুয়ের পাস থেকে বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন কভারাটস্খেলিয়া। একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শরীর বাঁকিয়ে ডান পায়ের দারুণ এক শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।

৩. জোয়াও নেভেস (৩২ মিনিট) – পিএসজি ২-১ বায়ার্ন

উসমান ডেম্বেলের করা একটি কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে বুলেট গতির হেডার করেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার নেভেস। বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের কিছুই করার ছিল না।

৪. মাইকেল অলিসে (৪১ মিনিট) – বায়ার্ন ২-২ পিএসজি

ম্যাচের অন্যতম সেরা গোল। বক্সের বাইরে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন অলিসে। পিএসজির বেশ কয়েকজন ডিফেন্ডার তাকে ঘিরে থাকলেও তার শটটি সবাইকে ফাঁকি দিয়ে জালে ঢোকে।

৫. দেম্বেলে (৪৫+ মিনিট, পেনাল্টি) – পিএসজি ৩-২ বায়ার্ন

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ডেম্বেলের একটি ক্রস বক্সের ভেতর আলফোনসো ডেভিসের হাতে লাগলে ভিএআর-এর মাধ্যমে পেনাল্টি পায় পিএসজি। দেম্বেলে নিজেই শট নিয়ে নয়ারকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে গোল করেন।

৬. কাভারাৎস্কায়া (৫৫ মিনিট) – পিএসজি ৪-২ বায়ার্ন

আশরাফ হাকিমির বাড়ানো নিখুঁত একটি ক্রস খুঁজে নেয় কাভারাৎস্কায়া। গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন এই জর্জিয়ান তারকা।

কাভারাৎস্কায়ার দ্বিতীয় গোল

৭. দেম্বেলে (৫৮ মিনিট) – পিএসজি ৫-২ বায়ার্ন

মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে আবার গোল! এবার ডেম্বেলেকে বল বাড়িয়ে দেন ডেজায়ার দুয়ে। দেম্বেলে বক্সের ডান দিক থেকে ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করে পোস্টের একদম কোনা দিয়ে শট নেন, যা পোস্টে লেগে ভেতরে ঢুকে যায়।

৮. উপামেকানো (৬৫ মিনিট) – বায়ার্ন ৩-৫ পিএসজি

পিএসজি যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই জশুয়া কিমিখের একটি ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে ব্যবধান কমান বায়ার্ন ডিফেন্ডার উপামেকানো।

৯. লুইস দিয়াজ (৬৮ মিনিট) – বায়ার্ন ৪-৫ পিএসজি

ম্যাচের শেষ গোলটি ছিল দুর্দান্ত। হ্যারি কেইনের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অধিনায়ক মার্কিনহোসকে গায়ের জোরে সরিয়ে দিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন লুইস দিয়াজ। শুরুতে অফসাইড মনে হলেও ভিএআর চেকের পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আগামী সপ্তাহে বায়ার্ন মিউনিখের ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে কোন দল যাচ্ছে ফাইনালে। ৫-৪ গোলের লিড নিয়ে পিএসজি কি পারবে তাদের এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে? 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত