কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নওদাবস গ্রামে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বসবাস করা একটি অসহায় পরিবার বর্তমানে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্ত্রী ও দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে লাল বাহাদুর রবিদাস প্রায় এক মাস ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিপক্ষরা বসতভিটার চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় পরিবারটি কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী জবরুল হক, জসিম উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযোগের সুরে পরিবারটি জানায়, গত ৯ এপ্রিল অভিযুক্তরা বসতবাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে। পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আঙিনার মাটি খুঁড়ে শাক-সবজির বীজ রোপনের মাধ্যমে নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।
লাল বাহাদুর রবিদাসের স্ত্রী আরতি রানী বলেন, বাড়ির চারদিকে এমনভাবে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে যে আমরা কোথাও যেতে পারছি না। নিত্যদিনের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। কি কষ্টে দিন কাটাচ্ছি, তা শুধু সৃষ্টিকর্তাই জানেন।
এ ঘটনায় পরিবারটি গত ২২ দিন ধরে চরম আতঙ্ক ও দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় জয়নাল আবেদীন, দুলু মিয়াসহ অনেকে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারকে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
নওদাবস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সমাধানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হলেও এখনও সমাধান মেলেনি। তবে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল বলেন, ওই পরিবারটির অভিযোগ পেয়েছি। আমি স্থায়ীভাবে মিমাংসার চেষ্টা করছি। মিমাংসা না হলে তাদেরকে আইনগত সহযোগীতা করা হবে।
