তরুণদের দরকার সঠিক গাইডলাইন : মামুনুল

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০১:০৪ এএম

এক সময় জাতীয় দলের মধ্যমাঠের ভরসা ছিলেন। ২০২০ সালের পর জাতীয় দলে আর নিয়মিত দেখা না গেলেও ঘরোয়া ফুটবলে খেলে গেছেন ধারাবাহিকভাবে। জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন, গোল করেছেন। ফুটবল ক্যারিয়ারে পেয়েছেন অনেক কিছু। উল্টো পিঠে রয়েছে আক্ষেপও। তবে সম্প্রতি সেই অধ্যায়েরও ইতি টেনেছেন মধ্যমাঠের ফুটবলার মামুনুল ইসলাম। শুক্রবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে জিতেই ফর্টিজ এফসি থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে অবসরে গেলেন এই ফুটবলার। পেয়েছেন সতীর্থদের বিদায় সম্ভাষণও। ক্যারিয়ারের আদ্যোপান্ত নিয়ে মামুনুল ইসলাম কথা বলেছেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে।

একদিন আগেই ফুটবল থেকে অবসরে গেলেন। কেমন লাগছে?

মামুনুল ইসলাম : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আগে প্রতিদিন মাঠ, অনুশীলন, ম্যাচ, একটা ব্যস্ত রুটিন ছিল। এখন পরিবারকে সময় দিতে পারব, নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ পাব। তবে মাঠের উত্তেজনা মাঝে মাঝে খুব মিস করব।

অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তটা কতটা কঠিন ছিল?

মামুনুল : খুবই কঠিন। ফুটবল আমার জীবনের বড় অংশ ছিল। কিন্তু একটা সময় আসে যখন বুঝতে হয় শরীর আগের মতো সাপোর্ট দিচ্ছে না। তখন মনে হয়েছে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়াই ভালো।

আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি?

মামুনুল : জাতীয় দলের জার্সি পরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। অধিনায়ক হওয়া, আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করা, বড় বড় ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া, এসব মুহূর্ত কখনো ভোলার নয়।

ক্লাব ক্যারিয়ারেও আপনি সফল ছিলেন। কোন ক্লাব-সময়টা বেশি প্রিয়?

মামুনুল : প্রতিটি ক্লাবেরই আলাদা স্মৃতি আছে। তবে আবাহনী, মোহামেডান কিংবা শেখ জামালের সময়গুলো খুবই বিশেষ। সমর্থকদের ভালোবাসা সব জায়গাতেই পেয়েছি। তবে আমার কাছে বেশি প্রিয় এখন ফর্টিজ এফসি।

কেন? আবাহনী কিংবা মোহামেডান নয় কেন?

মামুনুল : ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে আমার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু। এরপর তিন বছর করে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ও শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবে, দুই বছর করে মোহামেডান, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও চট্টগ্রাম আবাহনীতে এবং এক বছর করে খেলেছি মুক্তিযোদ্ধা, শেখ রাসেল ও রহমতগঞ্জে। তবে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি খেলেছি ফর্টিজ এফসিতে। তাই এই ক্লাবটিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। কারণ তারা যে সম্মান দিয়েছে, তার ঋণ শোধ করার মতো না। জাতীয় দলের জার্সিতেও প্রায় এক দশক প্রতিনিধিত্ব করেছি। ২০১০ সালে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলাম। জাতীয় দল যা দেওয়ার কথা ছিল, সেটা দিয়েছে এই ফর্টিজ। তাই আমার হৃদয়ের গহিনে ফর্টিজের জন্য ভালোবাসা চিরজাগ্রত থাকবে।

আপনার ক্যারিয়ারে কিছু বিতর্কও ছিল। এখন ফিরে তাকিয়ে কী মনে হয়?

মামুনুল : মানুষ হিসেবে ভুল হতেই পারে। কিছু ঘটনা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, আবার কিছু থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছি। এখন মনে হয়, ওই সময়গুলো আমাকে আরও শক্ত করেছে। আমি চেষ্টা করেছি নিজেকে ঠিক রাখতে।

বাংলাদেশ ফুটবলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মতামত কী?

মামুনুল : সম্ভাবনা আছে, কিন্তু আমাদের ধারাবাহিকতা দরকার। অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রাসরুট পর্যায়ে কাজ, এসব আরও জোরদার করতে হবে। তরুণদের সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের সঠিক গাইডলাইন দরকার।

আপনি কি কোচিং বা ফুটবলের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকার পরিকল্পনা করছেন?

মামুনুল : হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি ফুটবল থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে চাই না। কোচিং, মেন্টরিং, এসব নিয়ে ভাবছি। তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই।

তরুণ ফুটবলারদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

মামুনুল : শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিভা থাকলেই হবে না, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় না দিয়ে মাঠে মনোযোগ দিতে হবে। আর দেশের জন্য খেলার স্বপ্ন সবসময় ধরে রাখতে হবে।

পরিবার আপনার ক্যারিয়ারে কতটা ভূমিকা রেখেছে?

মামুনুল : অনেক বড় ভূমিকা। কঠিন সময়গুলোতে পরিবার আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব ছিল না।

শুনলাম আপনার দুটি আক্ষেপ রয়েছে। কী সেগুলো?

মামুনুল : আমরা সবাই জানি, ২০০৩ সালের পর আর সাফ জেতেনি বাংলাদেশ। এরপর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হলেও কোনো সাফজয়ী দলের সদস্য হতে পারিনি। এটা আমার প্রথম আক্ষেপ। আর দ্বিতীয় আক্ষেপ হচ্ছে, ভারতের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। অ্যাথলেটিকো কলকাতার হয়ে দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাইনি কখনো। অথচ সেই মৌসুমে দলটি শিরোপা জিতেছিল, কিন্তু উদযাপনের অংশ হতে পারিনি। এই দুটিই আমাকে বেশি কষ্ট দেয়।

ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

মামুনুল : আমি চাই ফুটবলের সঙ্গে থেকেই দেশের জন্য কিছু করতে। হয়তো একজন কোচ হিসেবে, অথবা সংগঠক হিসেবে কাজ করব। আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।

সমর্থকদের জন্য কিছু বলতে চান?

মামুনুল : সমর্থকরাই আমাদের শক্তি। ভালো সময়, খারাপ সময়, সব সময় তারা পাশে ছিল। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও তারা যেন বাংলাদেশ ফুটবলকে সমর্থন করে, এটাই চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত