ঢাকা বার নির্বাচনে সব পদেই জয় বিএনপিপন্থিদের

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) নির্বাচনে (২০২৬-২০২৭ মেয়াদে) বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থক সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল সভাপতি-সম্পাদকসহ ২৩ পদের সবকটিতে জয় পেয়েছে। এতে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া (৪ হাজার ৪৬৮ ভোট) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খান (৪ হাজার ৪৫ ভোট) জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপিপন্থিদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন জামায়াত-এনসিপি প্যানেলের অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বিএনপিপন্থিদের আরও যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন সিনিয়র  সহসভাপতি পদে মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহসভাপতি পদে মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র  সহসাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইলতুৎমিশ সওদাগর (অ্যানি) ও সহসাধারণ সম্পাদক পদে মো. মাহাদী হাসান জুয়েল। এ ছাড়া লাইব্রেরি সম্পাদক পদে খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক হিসেবে মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে এ এস এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদে বিএনপিপন্থিরা জয়লাভ করেছেন।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন ২১ হাজার ৭৮৫ ভোটারের মধ্যে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সেই হিসেবে প্রায় ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন, যা অন্য বছরের তুলনায় কম।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ মেয়াদে সর্বশেষ ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ সমর্থক সাদা প্যানেল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। সেই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা।

জাল ভোটের অভিযোগ জামায়াতের আইনজীবীদের : ঢাকা বার নির্বাচনে জাল ভোট প্রদান ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের আইনজীবী সংগঠন বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠনে অসামাঞ্জস্য থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অনেকে জাল ভোট প্রদান করেছে, যা তারা ঠেকাতে পারেনি। এ ছাড়া নির্বাচনের বিভিন্ন বুথে ঢুকে টেম্বারিং করেছে। বেশ কিছু ভোটার ভোট দিতে এসে দেখেন তার ভোট আগেই দেওয়া হয়েছে গেছে, যা অনাকাক্সিক্ষত। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঢাকার বার নির্বাচনে প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। ফলে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধা দিয়ে নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এদিকে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং, জালিয়াতি ও কারচুপির’ অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স। সংগঠনের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভেতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই-বাচাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত