ইকরামের বাগানে ১৫০ জাতের আঙুর

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকেই বেছে নিয়েছিলেন ইকরাম খান। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে তার জীবন। শুরুতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বড় ভাইয়ের দেওয়া একটি মাত্র আঙুরের চারাই ছিল তার সম্বল। এখন সেই একটি চারার হাত ধরেই চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছোট হলদিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৫০ জাতের আঙুরের বাগান। আঙুর ও চারা বিক্রি করে বছরে আয় করছেন প্রায় ৯ লাখ টাকা।

২৬ বছর বয়সী ইকরাম খান ছোট হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা সায়েদুল ইসলাম খান ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাবেক উপপ্রকৌশলী। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার কলাদী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন ইকরাম। সেখান থেকে প্রায় প্রতিদিন ছোট হলদিয়া গ্রামে এসে নিজের বাগানের পরিচর্যা করেন।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে ১৮ শতক পৈতৃক জমিতে তার এই আঙুর বাগান। মালচিং পদ্ধতিতে গড়ে তোলা বাগানে সারি সারি গাছে ঝুলছে লাল, সবুজ, হলুদ, আধাপাকা ও পাকা আঙুরের থোকা। দূর থেকেই নজর কাড়ে সেই দৃশ্য।

 ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর ইকরামের আর পড়াশোনা এগোয়নি। চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই কিছু একটা করার চিন্তা করেন। ২০২১ সালে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি আঙুরের চারা পান। সেটি বাড়ির ছাদে লাগানোর এক বছর পর গাছে ফল আসে। থোকায় থোকায় আঙুর দেখে তার আগ্রহ বেড়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদেশ থেকে অনলাইন ও লোক মারফত ১৫০টি উন্নত জাতের আঙুরের চারা সংগ্রহ করেন। পরে পৈতৃক জমিতে গড়ে তোলেন পূর্ণাঙ্গ আঙুর বাগান। বর্তমানে তার বাগানে ব্ল্যাক ম্যাজিক, গ্রিনলন, ভ্যালেজ, সুপারনোভা, এঞ্জেলিকাসহ প্রায় ১৫০ জাতের আঙুরগাছ রয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাগানে আঙুর পাকা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬০০ কেজির বেশি পাকা ও আধাপাকা বিষমুক্ত আঙুর উৎপাদন করেছেন। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেছেন। এর  পাশাপাশি চারা বিক্রি করে আয় করেছেন আরও প্রায় ছয় লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বছরে তার মোট আয় প্রায় ৯ লাখ টাকা। এখানে মূলত মিষ্টি জাতের আঙুরের চারা বেশি বিক্রি হয়। ২০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামের চারা রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি চারা বিক্রি হয়েছে।

ইকরাম খান জানান, ‘আমাদের বাগানের আঙুর বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। ফলগুলো মিষ্টি, রসালো ও বিষমুক্ত হওয়ায় মানুষ সরাসরি বাগানে এসে কিনে নিয়ে যায়। অনলাইনেও চারা ও ফলের ভালো চাহিদা রয়েছে।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। দেশে আঙুরের উৎপাদন বাড়লে বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন কমবে। আমি চাই আরও তরুণ কৃষিতে আগ্রহী হোক।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইকরামের বাগান কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। বিষমুক্ত ও সুস্বাদু আঙুর চাষ করে তিনি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হালিম বলেন, ‘পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে সফলতা আসবেই, ইকরাম তার উদাহরণ। একটি চারা থেকে আজ সে একটি বড় আঙুর বাগান গড়ে তুলেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত