বিরোধীদলীয় নেতা বললেন

শ্রমিকের প্রয়োজন অবজ্ঞা করে সমাজ টেকসই হয় না

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রত্যেক সমাজেই অন্যান্য পেশার চেয়ে শ্রমিকদের সংখ্যা বেশি। এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও মর্যাদাকে অবজ্ঞা করে একটা সমাজ কখনো টেকসই হতে পারে না। শ্রমিক অঙ্গনের ন্যায্যতা এবং মর্যাদা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। এদেশে মালিক এবং শ্রমিকের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ একটা বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হোক, যাতে উভয়েই লাভবান হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, যে দেশ ন্যায় ইনসাফ এবং মানবতার ওপর দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে আওয়াজ দেবে।

গত শুক্রবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট চত্বরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা। সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিমের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নামে এক শ্রেণির নেতা ব্লাকমেইলিং করেন। যুগ যুগ ধরে নেতা-নেত্রীর কপালের পরিবর্তন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা আবার শ্রেণি সংগ্রামের আওয়াজ তোলেন। শত্রু কারা, শত্রু হচ্ছে মালিকপক্ষ। মালিকই যদি না থাকে তাইলে শ্রমিকরা কাজ করবে কোথায়? আমরা খতমের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-মর্যাদা ও ভালোবাসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

জামায়াত আমির বলেন, সামান্য রুটি- রুজির আশায়, একটু আশ্রয়ের আশায়, একটু ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে সমুদ্রে নৌকার ওপর চড়ে বসে, একটা ঢেউ এসে তাদের সমুদ্রের পেটে হজম করে ফেলে। কেউ ভাগ্যবশত চলতে চলতে বন্দরে ভিড়ে। ওখানে কারও জায়গা হয় কারাগারে, কারও জঙ্গলে। তারপর আস্তে আস্তে পথ খুঁজে নেয়। আবার বৈধ পথে অনেক শ্রমিক যান, তারা যাওয়ার পথেই দালালদের খপ্পরে পড়েন। তিনগুণ চারগুণ বেশি টাকা দালালদের দিয়ে তাদের বিদেশে যেতে হয়। সেই টাকা তুলতে না পেরে তারা মানবেতর জীবন যাপন করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ হবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। আমরা ওখানে গিয়েছি এদেশের দুঃখী মানুষের জন্য কথা বলতে। দোয়া করবেন যতদিন সংসদের ভেতরে থাকব, যেন আপনাদের জন্য লড়াই করে যেতে পারি। বাইরের লড়াইও চলবে।

জাপান সফরে জামায়াত আমির : বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাত দিনের সফরে জাপান গেছেন। গতকাল শনিবার ভোরে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। সাত দিনের সফরে তিনি জাপানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। তার সঙ্গে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। আগামীকাল সোমবার বিকালে ডা. শফিকুর রহমানকে জাপান প্রবাসী নাগরিকরা সংবর্ধনা দেবেন। টোকিও শহরের কামিনাকাযাতোর তাকিনোগাওয়া হলে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে তার সফরসঙ্গী দুই এমপি বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকবেন। আগামী  ৯ মে শফিকুর রহমানের ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত