দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যে ইরানে গোপনে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিভাইস পাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। দেশটির ভেতরে তথ্য আদান-প্রদান সচল রাখতে প্রবাসী ইরানিদের একটি গোপন নেটওয়ার্ক এই কাজ করছে বলে সংবাদমাধ্যমটির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম পরিবর্তন করে 'সাহান্দ' নামে পরিচিত এক ব্যক্তি বিবিসিকে বলেন, 'একজন মানুষও যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে, সেটাই সফলতা।' তিনি জানান, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২টি স্টারলিংক টার্মিনাল ইরানে পাঠিয়েছেন এবং আরও পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
ইরানে গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর নতুন করে এই ব্ল্যাকআউট শুরু হয়। এর আগে জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময়ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে ছয় হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৫৩ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার হন।
স্টারলিংকের সাদা সমতল টার্মিনাল ও রাউটার ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। এতে সরকারের নিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক এড়িয়ে বৈশ্বিক ইন্টারনেটে প্রবেশ সম্ভব হয়।
গত বছর ইরান সরকার স্টারলিংক ব্যবহার, কেনাবেচা বা বিতরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর এবং ১০টির বেশি ডিভাইস আমদানি বা সরবরাহে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
তবু দেশটিতে স্টারলিংকের চাহিদা বাড়ছে। অধিকারকর্মীদের ধারণা, বর্তমানে ইরানে অন্তত ৫০ হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল রয়েছে। ডিজিটাল অধিকার সংগঠন অ্যাকসেস নাউ বলছে, ইন্টারনেট বন্ধ করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং বিশ্বজুড়ে এটি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
