টানা দুই বছর ধরে চালানো ইসরায়েলের আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে হাফ ছেড়ে বাঁচে গাজাবাসী। দুই বছরের হামলায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার। ইসরায়েলের বর্বর হামলায় গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দুবছরব্যাপী যুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত গাজায় থাকা ধ্বংসাবশেষের এক শতাংশেরও কম অপসারণ করা হয়েছে। ইসরায়েলের দৈনিক হারেৎজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ধ্বংসাবশেষ অপসারণের ধীরগতির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ৭ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনের ব্যয় প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো হাজার হাজার মরদেহ চাপা পড়ে রয়েছে। পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি করা হয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্র্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, সরঞ্জাম ও সক্ষমতার মারাত্মক ঘাটতির কারণে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, প্রায়শই তা ইসরায়েল লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তাদের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, গাজা অভিমুখী মানবিক ত্রাণবহর সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া দুজন বিদেশি অ্যাক্টিভিস্টকে গতকাল রবিবার আশকেলনের একটি আদালতে হাজির করা হয়। ইসরায়েলের একটি মানবাধিকার সংগঠনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে এবং ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে ৫০টিরও বেশি নৌযানের একটি ত্রাণবহর যাত্রা শুরু করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার গ্রিস উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী ত্রাণবহরটির পথরোধ করে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সেখান থেকে প্রায় ১৭৫ জন অ্যাক্টিভিস্টকে সরিয়ে নিয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আদালতে হাজির করতে যাওয়া এই দুই অ্যাক্টিভিস্ট হলেন, স্পেনের নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলের নাগরিক থিয়াগো আভিলো।
