এপ্রিলে বেড়েছে রপ্তানি আয়

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৬:০৪ এএম

চলতি বছর এপ্রিলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। এ মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা গত আট মাসে সর্বোচ্চ। তৈরি পোশাক খাতে ভর করে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ২ শতাংশ কমে ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এপ্রিলে তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মূলত আগের মাসে রপ্তানি কম হওয়ার কারণে হয়েছে। মার্চ মাসে রপ্তানি কমার প্রধান কারণ ছিল ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং রপ্তানি কম হয়েছে, যার প্রভাব এপ্রিল মাসে এসে যুক্ত হয়েছে অর্থাৎ মার্চ মাসে শিপমেন্ট না হওয়া পণ্যসমূহ এপ্রিলে শিপমেন্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানি বাড়ছে। এটা যেমন সত্য। আবার এ সময়ে কোনো কারখানাতেই অতিরিক্ত অর্ডার আসেনি, কিংবা হঠাৎ করে নতুন ক্রেতার চাপও বাড়েনি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করছি, চলতি মাস শেষে রপ্তানিতে ফের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। কারণ, এই মাসের শেষ সপ্তাহে আবার একটি বড় ছুটি থাকবে, যার ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

রপ্তানির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে আমাদের জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, মে মাসের ঈদের প্রভাবের কারণে জুন মাসেও রপ্তানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইপিবি জানায়, এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার। এ শক্তিশালী পুনরুদ্ধার বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে চাহিদা বৃদ্ধি ও দেশের রপ্তানি খাতগুলোর সক্ষমতার প্রতিফলন।

এপ্রিল মাসে প্রায় সব প্রধান রপ্তানি খাতেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প থেকে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি বলে ইপিবির তথ্যে উল্লেখ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত