ঈদের আগে প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বগতি

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৬:০৫ এএম

ঈদের বাকি প্রায় এক মাস। এর আগেই গত এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার বা ৩৮ হাজার ১৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি মাসে ঈদ উপলক্ষে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। সরকারের প্রণোদনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের আস্থার উন্নয়নের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।  

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসজুড়ে দেশে এসেছে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন (৩,১২৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন (২,৭৫২ মিলিয়ন) ডলার। সেই হিসাবে এক বছরে এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। মাসের শেষ দিন ৩০ এপ্রিল এক দিনেই দেশে এসেছে ১২৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা মাসজুড়ে প্রবাহের ধারাবাহিকতাকে আরও জোরালো করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-এপ্রিল) প্রথম ১০ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৯ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন (২৯,৩৩২ মিলিয়ন) ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন (২৪,৫৩৭ মিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রতি বছর ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের অর্থনীতিতে এক বিশেষ গতি তৈরি হয়। এই সময়টায় কোরবানির পশু  কেনাকাটাসহ ঈদ উদযাপনে মানুষের ব্যয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আর এই বাড়তি খরচের বড় একটি অংশ জোগান দেন প্রবাসীরা, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মাধ্যমে। তাই ঈদুল আজহাকে সামনে এলেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এক ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা শুধু পরিবারের প্রয়োজন মেটায় না, দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের আস্থার উন্নয়ন, এসব কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। আমরা আশা করছি, এই ইতিবাচক ধারা আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল নিরুৎসাহিত করা এবং দ্রুততম সময়ে প্রবাসী আয় প্রেরণের সুবিধা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তারা।

প্রবাসী আয় বৃদ্ধির বিষয়ে বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বৈধ পথে টাকা পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির ফলে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের খরচ মেটাতে পাঠানো অর্থের পরিমাণও বেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত