পুরনো গৌরব কি ফিরিয়ে আনতে পারবে উরুগুয়ে?

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৬:১৪ এএম

বিশ্বকাপের আঙিনায় উরুগুয়ে মানেই এক লড়াকু মানসিকতা এবং ‘গারুয়া’ স্পিরিটের মহাকাব্য। ফুটবলের আদি পরাশক্তি উরুগুয়ের ইতিহাসের পাতা সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে ১৯৩০ এবং ১৯৫০ সালে। নিজেদের মাটিতে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপেই তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তবে ১৯৫০ সালের ‘মারাকানাজো’ এখনো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত, যেখানে স্বাগতিক ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল তারা।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১০ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ফোরলান ও লুইস সুয়ারেজদের হাত ধরে আবারও সেমিফাইনালে পা রাখে উরুগুয়ে। সেবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও চতুর্থ স্থানে থেকে মিশন শেষ করতে হয় তাদের। এখন উরুগুয়ের মূল লক্ষ্য হলো তাদের সেই সোনালি অতীতকে আধুনিক ফুটবলের আঙিনায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা।

উরুগুয়ের জন্য এবারের বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলে গেছে। কিংবদন্তি কোচ অস্কার তাবারেজের দীর্ঘ যুগের অবসানের পর মার্সেলো বিয়েলসা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলে এসেছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। বিয়েলসা কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল নয়, বরং আধুনিক হাই-প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের দর্শন ইনজেক্ট করেছেন দলে। বাছাইপর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে তারা আবারও বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে প্রস্তুত।

মার্সেলো বিয়েলসার দর্শন

৬৯ বছর বয়সী বিয়েলসা বিশ্ব ফুটবলে ‘এল লোকো’ নামে পরিচিত। উরুগুয়ের দায়িত্ব নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নামের ভারে নয় বরং ফিটনেস এবং মাঠের পরিশ্রমই হবে দলে টিকে থাকার মূল শর্ত। তিনি সাধারণত ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজান, যেখানে উইঙ্গারদের গতি এবং মিডফিল্ডের শক্তিমত্তাই মূল অস্ত্র।

মূল ভরসা ভালভার্দে ও নুনেজ

সুয়ারেজ-কাভানি পরবর্তী যুগে উরুগুয়ের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফেদেরিকো ভালভার্দে। তার দূরপাল্লার শট এবং মাঠজুড়ে দৌড়ানোর ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের কারণ। অন্যদিকে, আক্রমণে মূল দায়িত্ব থাকবে লিভারপুল স্ট্রাইকার ডারউইন নুনেজের ওপর। তার গতি এবং গোল করার ক্ষুধা উরুগুয়েকে বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

তরুণ ও অভিজ্ঞতার দারুণ সমন্বয়

উরুগুয়ের বর্তমান দলে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া জিমেনেজের পাশাপাশি রোনাল্ড আরাউহোর মতো তরুণ তুর্কিরা রক্ষণভাগকে দুর্ভেদ্য করে তুলেছেন। মাঝ মাঠে ভালভার্দের সঙ্গে রদ্রিগো বেন্টানকুরের বোঝাপড়া দলটিকে বাড়তি ভারসাম্য প্রদান করে। বিয়েলসার অধীনে এই দলটি এখন কেবল কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বল পজিশন ধরে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও অর্জন করেছে।

বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাশার চাপ

লাতিন আমেরিকার দেশটি তাদের জনসংখ্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্ব ফুটবলে দাপট দেখিয়ে আসছে। কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের হতাশা কাটিয়ে এবার তারা আরও বেশি সুসংগঠিত। বিশ্লেষকদের মতে, এবার উরুগুয়ে কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামবে। নুনেজের ফিনিশিং আর ভালভার্দের নেতৃত্ব যদি ক্লিক করে, তবে ‘গারুয়া’ স্পিরিটের উরুগুয়েকে থামানো যেকোনো দলের জন্যই কঠিন। নিজেদের সেরাটা দিয়ে তারা আবারও বিশ্বজয়ের আনন্দে ভাসতে চায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত