রেমিটেন্সে ৫ শতাংশ প্রণোদনার দাবি সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রেরণে বর্তমান আড়াই শতাংশ প্রণোদনা বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বন্ডের লভ্যাংশ বৃদ্ধি, প্রবাসীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে বিশেষ ইপিজেড নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে নন-স্টপ সার্ভিস চালু এবং বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ কাউন্টার স্থাপনের মতো একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন তারা। 

গতকাল জেদ্দার আল আয়াত রেস্টুরেন্টের হলরুমে জেদ্দা বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার এবং সৌদি আরবে বস্ত্র ও পোশাক খাতের উন্নয়ন বিষয়ে এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি বাংলা গার্মেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম সঞ্চালনা করেন।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেদ্দা বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সৈয়দা নাহিদা হাবিবা, কনস্যুলার এ.এস.এম. সায়েম, সৌদি বাংলা বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ আব্দুর রহমান, বিডি ফুডের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ.কে.এম. শাজাহান সিরাজীসহ গার্মেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক এম. ওয়াই. আলাউদ্দিন ও সাংবাদিক এ. আর. নোমানসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান, বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনের দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা শুধু শ্রমিক হিসেবেই নয়, বরং গার্মেন্টস, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কনস্ট্রাকশন এবং পণ্য আমদানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করছেন। তিনি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স বৃদ্ধির জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সুচিন্তিত পরামর্শ প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, প্রবাসী ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে আইনি সহায়তা দিতে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া উত্থাপিত দাবিগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এর আগে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে কনস্যুলেটের একটি প্রতিনিধি দল জেদ্দার বাওয়াদিতে অবস্থিত বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্যের বৃহত্তম পাইকারি মার্কেট পরিদর্শন করেন। কয়েকশ দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা এই মার্কেটে প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ীই বাংলাদেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত