আধুনিক ও দ্রুতগতির মার্কিন সমাজে ধর্মীয় স্বকীয়তা ও নৈতিক মূল্যবোধ অক্ষুণœ রাখতে বর্তমানে দেশটির ৩৫ লক্ষাধিক মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সন্তানদের পবিত্র কোরআনের হাফেজ বানানোর প্রবণতা বেড়েছে।
টেক্সাস ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ইসলামিক স্কুল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সহায়তায় নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এই হিফজ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিকূল পরিবেশে পরবর্তী প্রজন্মের ইমানি চেতনা ও সুশৃঙ্খল জীবন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই অভিভাবকরা এই বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনসংখ্যা এখন প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অভিভাবকরা মনে করছেন, বহুজাতিক ও বহু সাংস্কৃতিক পরিবেশে সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রে কোরআনের শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। কোরআন মুখস্থ করার মাধ্যমে শিশুরা শৈশব থেকেই তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হতে পারছে, যা তাদের প্রতিদিনের জীবনে নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অনেক পরিবারই এখন কোরআন শিক্ষা বা হিফজকে তাদের সন্তানদের জন্য অপরিহার্য মনে করেন। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে, বিশেষ করে টেক্সাসে এখন এমন অনেক ইসলামিক স্কুল গড়ে উঠেছে, যেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি হিফজের জন্য সুশৃঙ্খল পাঠ্যক্রম রয়েছে। গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মুখস্থ, তাজবিদ সংশোধন ও নিয়মিত রিভিশন সেশনে অংশ নেয়। মিনেসোটার মতো এলাকায় জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য এই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে কোরআন আয়ত্ত করতে পারছে। এই পরিবর্তনের পেছনে অনলাইন শিক্ষার বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক পরিবার এখন মসজিদের কাছাকাছি না থাকলেও বাসায় বসে যোগ্য শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
