গত এপ্রিলে সারা দেশে ২৯৪ নারী ও শিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৮ নারী, শিশু ও কিশোরী। আর একই সময়ে সারা দেশে ৭৫ সাংবাদিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এইচআরএসএসের প্রতিবেদন প্রকাশে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে ৬৮ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ৭৯ নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৪০ জন শিশু। এ ছাড়া যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৬৪ নারী এবং আত্মহত্যা করেছেন ৩৬ নারী। প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, গত এপ্রিলে ১৯১ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৩৪ শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সারা দেশে রাজনেতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ছয়জন নিহত এবং ৫৩৩ জনের বেশি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে এইচআরএসএস। তবে এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা মার্চ মাসের তুলনায় কমেছে। গত মার্চ মাসে ১১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৯১২ জন। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় এপ্রিল মাসে অন্তত ৯৮টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৪০টি ঘটনায় চারজন নিহত ও ২৪৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় অন্তত ১৩টি ঘটনায় ছয়জন নিহত ও কমপক্ষে ৩২ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বিএনপির তিনজন, আওয়ামী লীগের দুজন এবং জামায়াতের একজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে এক হাজার ৮৯ জনের বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য।
প্রতিবেদনে ‘মব’ সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, এপ্রিলে মব সহিংসতা ও গণপিটুনীতে ৪৪ ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এপ্রিল মাসে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ৪০টি হামলার ঘটনায় ৭৫ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ৪২ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ১৭ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ১০ সাংবাদিক।
এ ছাড়া গত মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ মাসে অন্তত ১৪টি ঘটনায় ২৩ জনকে আটক এবং ৯টি মামলা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মাজারে হামলার ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আটটি হামলার ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনটি মন্দির, দুটি প্িরতমা এবং একটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় একটি মাজারে হামলার ঘটনায় পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নিহত ও ১০ জন অনুসারী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ৮০টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৬৪ শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন।
