যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে ব্রেন্ডন লিঞ্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার দপ্তরে বৈঠক করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে চলতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করে। চুক্তিতে যেসব শর্ত রয়েছে, তার সিংহভাগ বাংলাদেশকে পরিপালন করতে হবে। আলোচিত এ বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল ঢাকার উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই। মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।
বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন। আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই, তিনি যোগ করেন।
চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে। তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
অপরদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্রেন্ডন লিঞ্চ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক বাণিজ্য সহজীকরণ উদ্যোগ, ন্যায্য বাণিজ্যচর্চা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন। ব্রেন্ডন লিঞ্চ গতকালই ঢাকা সফরে এসেছেন।
