রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার জন্য সতর্ক ও সুচিন্তিত প্রচেষ্টা নিচ্ছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি দিল্লি সফররত বাংলাদেশের একদল সাংবাদিকের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় এ ইঙ্গিত দেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ২৬ সদস্যের একটি সাংবাদিক প্রতিনিধিদলের পাঁচ দিনব্যাপী সফরের প্রথম দিন গত সোমবার সাউথ ব্লক হিসেবে এমইএতে এ আলাপচারিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশে প্রকাশিত বিক্রম মিশ্রির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পর্যায়ে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গতি হারানো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ‘ধীরে ধীরে’ পুনরুদ্ধার করার বিষয়ে বর্তমানে দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি সাধারণ বোঝাপড়া রয়েছে।
ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ৪০টিরও বেশি নিষ্ক্রিয় দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত ও ধীরে ধীরে সক্রিয় করতে চাইছে।
বিক্রম মিশ্রি চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা স্বীকার করে বলেন, তিন দশক আগে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিটি কার্যকরভাবে কাজ করেছে। যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি সংস্থাসহ প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে চুক্তিটি নবায়নসংক্রান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনে সহায়ক হতে পারে কিনা জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি কোনো ‘অনুমান করতে’ রাজি হননি। তবে তিনি একই সঙ্গে এ বিষয়ে উভয়পক্ষের অব্যাহতভাবে সম্পৃক্ত থাকার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের বৈদেশিক সম্পর্ক কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নির্ধারিত হয়।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ^ শর্মার করা বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি সতর্কতার সঙ্গে উত্তর দেন এবং ইঙ্গিত দেন যে মন্তব্যগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে করা হয়েছিল, যার সমাধান করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারকে ভারতের পছন্দ করা প্রসঙ্গে করা প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি স্বীকার করেন যে, ভারত আওয়ামী লীগ প্রশাসনসহ ঢাকার পূূর্ববর্তী সরকারগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। কিন্তু তিনি এটিকে একটি সাধারণ কূটনৈতিক রীতি হিসেবেই উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশের সরকার অন্য দেশের সরকারের সঙ্গে উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে।
তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো সহযোগিতামূলক উদ্যোগগুলো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে সব নাগরিকের সুবিধার জন্যই তৈরি করা হয়।
বিক্রম মিশ্র্রি দাবি করেন যে, বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনী কারসাজিতে ভারত জড়িত ছিল না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সময় পরিচালিত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত সেই সময় ‘বাস্তবসম্মত নীতি’ অনুসরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ প্রশাসনের কিছু মহলের সাড়া দেওয়ার অভাবের কারণে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সীমিত ছিল।
