পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ২০৭ আসনে জয়ী হয়েছে বিজিপি। আর এর পরই ভারতের বাঙালি অধ্যুষিত রাজ্যটি থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে কলকাতায় বিজেপির বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নিউ মার্কেট এলাকা। অভিযোগ উঠেছে, ওই মিছিল থেকে একটি মাংসের দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই এ ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।
সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন তার পোস্টে দাবি করেছেন, পুলিশের অনুমতি নিয়েই এই বিজয় মিছিল বের করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিআরপিএফ) উপস্থিতিতেই প্রকাশ্য দিবালোকে বুলডোজার এনে মাংসের দোকানটি ভাঙা হয়। তিনি একে বিজেপির ‘জয়ের উদ্যাপন’ হিসেবে কটাক্ষ করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ডেরেক নিজের পোস্টে লেখেন, মধ্য কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে, পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষেই, মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার আনা হয়েছে। জয়ের উদ্যাপন হিসেবেই তা করা হয়েছে। সিএপিএফ কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। আপনাদের জন্য বিজেপি। সারা দুনিয়া দেখুক এই ছবি।

তবে পুলিশ ডেরেকের অভিযোগের একটি অংশ উড়িয়ে দিয়েছে। লালবাজার সূত্রে জানানো হয়েছে, বিজয় মিছিলের অনুমতি থাকলেও তাতে বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
লোকসভার সদস্য মহুয়া মৈত্র এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেন এক্সে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, জেলায় জেলায় তাদের একের পর এক অফিস দখল করা হচ্ছে, ভাঙচুর করা হচ্ছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তৃণমূলের পার্লামেন্ট সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেন, বিজেপির দুষ্কৃতিকারীরা জগৎবল্লভপুরে তৃণমূলের পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে—বাংলার মানুষকে এখন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, এই ঘটনা তারই একটি উদ্বেগজনক প্রতিফলন।
তবে নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই তৃণমূল অভিযোগ করে আসছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যতালিকায় হস্তক্ষেপ করবে এবং মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। পাল্টা জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তখন বলেছিলেন, মাছ-মাংস ছাড়া বাঙালি থাকা অসম্ভব। কিন্তু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই নিউ মার্কেটের এই ঘটনা তৃণমূলের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
