কবিতার অন্তর্গত সুর শুনতে পান আহমেদ হাসান সানি

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ১২:৪২ এএম

সমকালীন বাংলা গানের বাঁকবদলের এই লগ্নে এক সতেজ, স্বকীয় ও মোহনীয় বাতাসের নাম আহমেদ হাসান সানি। তিনি একাধারে সুরের কারিগর এবং নাগরিক জীবনের বিষাদ, আনন্দ আর অপ্রকাশিত আখ্যানের এক নিভৃত রূপকার। নিজস্ব শব্দচয়ন আর প্রথাভাঙা গায়কীর মাধ্যমে তিনি সরাসরি শ্রোতার আত্মার নিভৃত প্রকোষ্ঠে এক নিবিড় কথোপকথন রচনা করেন। সানির এই সংগীতযাত্রার নেপথ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত জেদ এবং চিরাচরিত ছককে বুড়ো আঙুল দেখানোর স্পৃহা। তার শুরুটা অত্যন্ত আকস্মিক এবং আপন খেয়ালে বহমান। ছোটবেলায় ক্যাসেট প্লেয়ারে বেজে ওঠা ব্যান্ডের গান কিংবা বিখ্যাত ‘ব্যান্ডের সুরগুলো অবচেতনেই তার ধমনিতে সংগীতের বীজ বুনে দিয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো আকাক্সক্ষার তোয়াক্কা না করে নিজের ভেতরের কথাগুলো প্রকাশের তীব্র তাগিদ থেকেই তিনি এই পথে পা বাড়িয়েছেন। এক ধরনের অন্তর্গত জেদ এবং অস্বীকৃতি থেকেই জন্ম নিয়েছে তার এই নিজস্ব সুরের স্বাধীন পথচলা। তার সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কাব্যিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, প্রতিটি সার্থক কবিতার বুকেই একটি নিজস্ব সুর লুকিয়ে থাকে। মাথার ভেতর ঘুরপাক খাওয়া কোনো এক কবিতার সেই সুপ্ত ও অন্তর্নিহিত সুরকে তিনি গুনগুন করে জাগিয়ে তোলেন এবং সম্পূর্ণ নিজের মতো করে তার পাঠ উন্মোচন করেন। এভাবেই জন্ম নেয় একেকটি গানের শরীর। এই তুমুল সামাজিক যোগাযোগের যুগে প্রতিনিয়ত তথ্যের ভিড়ে শিল্পীরা যখন নিজস্বতা হারিয়ে মানসিক স্থবিরতা বা ‘আর্ট ব্লক’-এর শিকার হন, তখন সানি সাহিত্যের আশ্রয়ে বুক ভরে শ্বাস নেন। বইয়ের নিবিড় পাতায় ডুব দিয়ে তিনি মনোজগতের শূন্যতা দূর করেন এবং নতুন কাজের অনুপ্রেরণা খুঁজে নেন। সমকালীন সংগীতের এই গুরুত্বপূর্ণ কারিগর নিজের চারপাশের কাঠামোগত অসংগতি নিয়েও তীব্রভাবে সোচ্চার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত