যার জাদুকরী স্পর্শে বাংলার সুতো আর গামছা বিশ্বদরবারে পেয়েছে নতুন প্রাণ, সেই গুণী মানুষটির নাম বিবি রাসেল। আন্তর্জাতিক খ্যাতির পেছনের সাদামাটা ও শেকড়সন্ধানী বিবি রাসেলকে নতুন করে আবিষ্কার করা যায় এ আড্ডায়। দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব
দেশ রূপান্তর : আপনার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং শৈশবের দিনগুলো কেমন ছিল? শুনেছি আপনারা বাড়িতেই অনেক গুণী মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন।
বিবি রাসেল : আমাদের বড় হওয়াটা আসলে ওল্ড ঢাকায়, সম্পূর্ণ নিজের বাড়িতেই শিক্ষার মাধ্যমে। বড় কোনো স্কুল বা কলেজে যাওয়ার আগেই বাড়িতে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা শুরু হয়ে যেত। আমার বাবা-মা দুজনেই অত্যন্ত সচেতন ও মুক্তমনা মানুষ ছিলেন। বিশেষ করে আমার বাবা ‘সিধু ভাই’ (মোখলেসুর রহমান) এবং মা ‘রোজ বু’ (শামসুন্নাহার রহমান)-এর কারণে আমাদের ঘরটা ছিল সংস্কৃতির এক মিলনমেলা। পাকিস্তানের আইয়ুব খানের আমল, যখন রবীন্দ্র আন্দোলন চলছিল, তখন আমাদের বাসায় নিয়মিত রাতের বেলা দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গুণী মানুষেরা আসতেন। মণি সিংহ, লোহানী চাচা, ওয়াহেদুল হক চাচাদের মতো মানুষদের আমরা নিজেদের ঘরেই দেখে বড় হয়েছি। সকালে উঠে দেখতাম রাতের মিটিং শেষে সব খাবার শেষ, উনারা খেয়েদেয়ে চলে গেছেন (হাসি)। জয়নুল আবেদিন ভাই, কামরুল হাসান ভাই, সুলতান ভাই, কিবরিয়া ভাই,এদের সবার সান্নিধ্য আমি ছোটবেলা থেকেই পেয়েছি। নাচে, গানে, শিল্পে যারা সেরা এমন কেউ বাকি নেই যাদের আমি দেখিনি। এই চমৎকার পরিবেশের কারণেই সংকীর্ণতা আমাদের ছুঁতে পারেনি।
দেশ রূপান্তর : আপনার বাবা-মায়ের একটি চমৎকার দীক্ষার কথা আপনি বলছিলেন, তারা আপনাদের এক অন্যরকম উপায়ে উইশ করতে শেখাতেন?
বিবি রাসেল : হ্যাঁ, আমার বাবা-মা আমাদের তিন বোনকে আকাশের তারা দেখতে শেখাতেন। উনারা বলতেন, ‘তোমরা আকাশের একেকটা উজ্জ্বল তারা হবে।’ রাতে তারা দেখলে আমরা উইশ করতাম এবং বিশ্বাস করতাম যে একদিন জীবনে সত্যি বড় কিছু করতে পারব। আমার বাবা-মা আমাদের কখনোই কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দেননি, আবার বিলাসিতাও শেখাননি। তবে উনারা আমাদের প্রচুর ঘোরাতেন। বাংলাদেশের একেক অঞ্চলের একেক রকম খাবার, আলাদা গান আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমি খুব কাছ থেকে দেখে বড় হয়েছি।
দেশ রূপান্তর : রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির সঙ্গে আপনার এই যে আত্মিক যোগাযোগ, এটি আপনার জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?
বিবি রাসেল : আমার ফ্যাশন আইকন রবীন্দ্রনাথ। আর উনি তো আসলে বাঙালির চলার প্রধান শক্তি। শান্তিনিকেতনে বসে যখন আমি আমার প্রথম কালেকশনের কাজ করি, তখন থেকেই উনার সব সৃষ্টির সঙ্গে আমার গভীর সংযোগ। উনার বাংলা বা ইংরেজি চিঠিগুলো এত সহজ ও সাবলীল! মানুষের দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ বা প্রকৃতির এমন কোনো দিক নেই, যা নিয়ে উনি লেখেননি। আমার বাবা আমাদের খুব ভোরে ঘুম থেকে তুলতেন এবং নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত শোনাতেন। সত্যি বলতে, ছোটবেলায় ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’ গানটা আমার একদমই ভালো লাগত না। কিন্তু যখন বড় হলাম, একাকী আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে পা রাখলাম, তখন পদে পদে এই গানের দর্শনটা আমার ভেতরে জেগে উঠল। একা পথ চলার শক্তিটা আমি ওনার সৃষ্টি থেকেই পেয়েছি।
দেশ রূপান্তর : আপনি যদি ফ্যাশন ডিজাইনার না হতেন, তবে আপনার জীবনের পথটা কোন দিকে যেত বলে মনে হয়?
বিবি রাসেল : আমি যদি ফ্যাশন ডিজাইনার না হতাম, তবে আমি নিশ্চিত একজন আর্কিটেক্ট (স্থপতি) হতাম। আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান ও বিখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলাম সাহেব আমাকে খুব আদর করতেন। উনিও ভাবতেন আমি চারুকলা বা আর্কিটেকচারে পড়ব। ছোটবেলা থেকেই আমার দারুণ আঁকার হাত ছিল। অনেকেই ভাবত আমি চারুকলায় যাব, কিন্তু আমি আসলে ইচ্ছে করেই সেখানে যাইনি। আমি জানতাম, আমি যদি পড়াশোনায় একদম টপ লেভেলে থাকি, তবে আমার বাবা-মা আমাকে জোর করে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানাতে পারেন। তাই আমি পরীক্ষার আগে ঠিক করে যেতাম যে পরীক্ষায় শুধু পাস নম্বরটুকু তুলব (হাসি)। আমি ফেল করতাম না, কিন্তু প্রথমও হতাম না। তবে যখন লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনে ভর্তি হলাম, তখন কিন্তু আমি পুরো ক্লাসের টপ লেভেলে ছিলাম। কারণ ওটাই ছিল আমার আসল ভালোবাসা। তবে আর্কিটেকচারের প্রতি ভালো লাগাটা আমার সবসময়ই ছিল।
দেশ রূপান্তর : আপনি আন্তর্জাতিক র্যাম্প এবং গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চূড়ায় ছিলেন। সেই বর্ণিল জগৎ ছেড়ে এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তাঁতিদের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কি খুব সহজ ছিল?
বিবি রাসেল : অনেকেই আমাকে দেশ রূপান্তর করে যে, আমি এত গ্ল্যামারাস জগৎ ছেড়ে কেন এ দেশে ফিরে আসলাম, কেন বড় বড় বলগাউন বানাই না বা আমার বড় কোনো শোরুম কেন নেই। আমি তাদের বলি দোকান বা ব্যবসা করার ইচ্ছে থাকলে তো আমি বাংলাদেশেই আসতাম না। আমি যখন লন্ডনে পড়তাম, ফাইনাল ইয়ারেই আমার কাজ ব্রিটিশ আর্কাইভে জায়গা পেয়েছিল, আমি সেখানকার ফেলো হয়েছিলাম। আরমানি বা অন্যান্য বড় বড় ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করেছি।
কিন্তু আমার নিজের দেশের সংস্কৃতির যে টান, সেটা অন্যরকম। আমি যখন গ্রামে কাজ করতে যাই, তখন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ‘ছোট, বড়, ইয়াং’ সবাই যেভাবে ভালোবেসে আমার হাত ধরে, জিজ্ঞেস করে যে ‘আপা আপনি রোগা হয়ে গেছেন, কী খাবেন?’ এই যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, এই গ্ল্যামার আমি পৃথিবীর আর কোথায় পাবো? বলিউড স্টারের পেছনেও মানুষ এভাবে ছুটে না, যেমনটা ভালোবেসে গ্রামের মানুষ আমাকে জড়িয়ে ধরে। আজকে বাংলাদেশের অন্তত ৫০ ভাগ মানুষ যারা গ্রামে আছে, তাদের দোয়া আর ভালোবাসাতেই আমি টিকে আছি।
দেশ রূপান্তর : আমাদের দেশের খাদি ও তাঁতশিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার পেছনে আপনার মূল দর্শনটা কী ছিল?
বিবি রাসেল : আমাদের ’৭১-এর স্বাধীনতা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আমাদের নিজেদের দেশ স্বাধীন করেছি মূলত আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচানোর জন্য। এটি এক নম্বর কারণ। পৃথিবীর কোনো দেশ শুধু ভাষার জন্য বা নিজের সংস্কৃতির জন্য এত রক্ত দেয়নি, এত প্রাণ বা জান বিসর্জন দেয়নি। তাই আমি যখন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ছিলাম, তখনো আমি চাইতাম আমার দেশের এই সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে। তখন বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের এক রকম ভাবমূর্তি ছিল যে এটি একটি দরিদ্র বা মিসেরেবল দেশ। কিন্তু আমি যখন র্যাম্পে কাজ করতাম বা ফ্যাশন নিয়ে কাজ করতাম, তখন বিশ্ববাসীর মনে একটা কিউরিওসিটি তৈরি হতো যে নতুন একটি দেশ, বাংলাদেশের একটি মেয়ে এসে ফ্যাশন জগৎ কাঁপাচ্ছে! আমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেটুকু সাকসেস পেয়েছি, সেটা শুধু আমার বাংলাদেশের এই কিউরিসিটি আর সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারণে। তাই আমার উপার্জিত অর্থ আমি আমার বাবার অফিস ও মায়ের বাসায় থেকে আমার এই স্বপ্ন পূরণে, অর্থাৎ দেশীয় তাঁত ও খাদি শিল্পকে প্রমোট করার পেছনে ঢেলে দিয়েছি।
দেশ রূপান্তর : ইদানীং আমাদের দেশের তাঁতশিল্প তো অনেকটা সংকটের মুখে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে হ্যান্ডলুম বা হস্তচালতি তাঁত কমে যাচ্ছে। এটি নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
বিবি রাসেল : এখন টাঙ্গাইল বা সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় হ্যান্ডলুমের জায়গা মেশিন-মেইড বা পাওয়ারলুম নিয়ে নিচ্ছে, যার ফলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ কোনো দেশেই তাদের ঐতিহ্য এভাবে হারিয়ে যেতে দেওয়া হয় না। আমার সবসময় প্রচেষ্টা থাকে এই হস্তশিল্প ও তাঁতকে ধরে রাখার। আপনি যতই বার্গার বা ফাস্টফুড খান না কেন, দিন শেষে নিজের বাড়ির ডাল-ভাতের যে তৃপ্তি, সেটা কিন্তু অন্য কোথাও নেই। ঠিক তেমনি দেশীয় কাপড়ের আরাম ও ঐতিহ্য অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের এই চলটা ধরে রাখা এবং তাঁতিদের বাঁচানো খুব জরুরি। আমরা যদি এই ডিজাইন বা ঐতিহ্য ধরে রাখতে না পারি, তবে আমাদের সব আর্ন বা রোজগারের টাকা বাইরে চলে যাবে, কারণ তখন আমাদের সব জিনিস বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : আপনি যে রিকশা আর্ট বা গামছা নিয়ে কাজ করছেন, এগুলোকে আপনি আপনার নিজের কতটা ‘আর্ট’ মনে করেন? এই ডিজাইনগুলো বা অ্যাসথেটিক্সগুলো মানুষ কেন সহজে গ্রহণ করবে বলে আপনার মনে হয়?
বিবি রাসেল : আমি মনে করি আর্ট সব জায়গাতেই আছে। আপনি যেভাবে বসেন, যেভাবে কলমটা ধরেন তাও কিন্তু এক ধরনের আর্ট। তাই এই দেশীয় অ্যাসথেটিক্সগুলোকে ডাইভারসিফাই করার মধ্যে কোনো অসুবিধা নেই। যেমন এই যে রিকশা আর্টকে আমি কোস্টারে রূপান্তর করেছি, এগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি ইজি-টু-ইউজ এবং এগুলো কিন্তু ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে তৈরি করা, অর্থাৎ সম্পূর্ণ রিসাইকেলড প্রোডাক্ট! সবারই একটা নিজস্ব স্টাইল বা কমফোর্ট জোন থাকে। আমি যেটাই পরি না কেন বা যখনই পরি, তা সবসময় দেশীয় খাদি বা তাঁতের তৈরি শাড়ি এবং আমি নিজে এগুলো পরে আমার কাজকে প্রমোট করি। নিজে যদি বিশ্বাস করে না পরি, তবে অন্যকে কীভাবে বলব? ফ্যাশনে ডিজাইনারদের নিজস্ব একটা হ্যান্ডরাইটিং বা সিগনেচার স্টাইল থাকে। যেমন নাম না দেখেও আপনি কণ্ঠ শুনে শিল্পী চিনতে পারেন, তেমনি ডিজাইন দেখে ব্র্যান্ড চেনা যায়। আমার লক্ষ্য আমাদের এই নিজস্ব সিগনেচার স্টাইল বা ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা। আমার বিশ্বাস, আগামী ১০ বা ১৫ বছর পর আমাদের সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরাই এই জায়গাটা নেতৃত্ব দেবে।
দেশ রূপান্তর : মৃত্যু এবং জীবনকে আপনি কীভাবে দেখেন? এত মানুষের চলে যাওয়া বা নিজের জীবনের সমাপ্তি নিয়ে আপনার কোনো ভয় কাজ করে?
বিবি রাসেল : আমি মৃত্যুকে একদমই ভয় পাই না। আমি এখন বের হয়ে গিয়েই মরে যেতে পারি এই বাস্তবতাকে আমি মেনে চলি। আমি দুনিয়ায় শুধু একটি জিনিসকে খুব ভয় পাই, আর তা হলো সাপ। আমার বাবা-মা আমাকে সবাইকে শ্রদ্ধা করা শিখিয়েছেন, কিন্তু ভয় পাওয়া শিখাননি। মৃত্যু তো আসবেই, জন্ম-মৃত্যু তো নির্দিষ্ট করাই আছে, একে পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারও নেই। কিন্তু যতদিন বেঁচে আছি, মৃত্যু আসবে এই ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার মানুষ আমি নই। আমি এই বয়সেও প্রতিদিন অন্তত ১৬ ঘণ্টা কাজ করি এবং কাজ করে আমি শেষ করতে পারি না। জীবনকে আমি কর্মের মাঝেই উপভোগ করি।
দেশ রূপান্তর : আপনার জীবনের এমন কোনো মজার বা অদ্ভুত ভয়ের অভিজ্ঞতা আছে, যা সচরাচর মানুষ জানে না?
বিবি রাসেল : দুনিয়ায় আমি শুধু একটা জিনিসকে যমের মতো ভয় পাই, আর তা হলো ‘সাপ’। সাপ ছাড়া আমি আর কোনো কিছুতেই ভয় পাই না। একবার আফ্রিকার এক জঙ্গলে বিশ্বখ্যাত ‘পিরেল্লি ক্যালেন্ডার’-এর জন্য আমার একটা ফটোশুট ছিল। ওটা বিশে^র অন্যতম সেরা ও প্রেস্টিজিয়াস কাজ। কিন্তু আমার এজেন্ট আমাকে একটা জিনিস আগে বলেনি, সেটা হলো শুটের সময় একটা জীবন্ত সাপ ব্যবহার করা হবে। আমি যখন স্পটে গিয়ে ওটা দেখলাম, আমি ভয়ে পুরো কাঠ হয়ে গিয়েছিলাম! ওটা নাকি ট্রেইন্ড সাপ এবং অবশ করে রাখা, কিচ্ছু করবে না। কিন্তু সাপের নাম শুনলেই যেখানে আমার হাত-পা কাঁপে, সেখানে জীবন্ত সাপ সামনে দেখে আমার এক্সপ্রেশনই আসছিল না। আমি কাজটা করতে পরিষ্কার মানা করে দিলাম। আমার এজেন্ট বলল, ‘প্যাট্রিক লিচফিল্ড (বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার) তোমাকে ব্যান করে দেবে।’ আমি বললাম, ‘ব্যান করলে করুক, তাও আমি সাপের সামনে যাব না।’ (হাসি) ব্যস, ওটা করা হয়নি।