ফ্রান্সে ‘বিপজ্জনক’ বিদেশিদের আটকের মেয়াদ বাড়িয়ে ২১০ দিন করার বিল পাস

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে পাস হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত একটি নিরাপত্তা বিল। এই আইনের ফলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত নির্দিষ্ট কিছু নথিবিহীন বিদেশি নাগরিককে প্রশাসনিক আটককেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২১০ দিন বা প্রায় সাত মাস পর্যন্ত আটকে রাখার বৈধতা দেওয়া হয়েছে। মূলত জননিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং অপরাধীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই বিধান সবার জন্য ঢালাওভাবে প্রযোজ্য হবে না। এটি মূলত তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে যাদের ফরাসি ভূখণ্ড ত্যাগের আদেশ রয়েছে এবং যারা গুরুতর কোনো অপরাধে দণ্ডিত। বিশেষ করে, কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং যাদের উপস্থিতি জনশৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে, তাদেরই দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখা হবে।

বর্তমান সাধারণ আইনে প্রশাসনিক আটকাদেশের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৯০ দিন এবং সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষীদের জন্য ১৮০ দিন। তবে নতুন বিলটি কার্যকর হলে উভয় ক্ষেত্রেই এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ট্রাভেল ডকুমেন্ট পেতে যে সময়ের প্রয়োজন হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই মেয়াদ বৃদ্ধি।

২০২৪ সালে প্যারিসে এক ফিলিপিনো শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর এই আইনটি জনমতে ব্যাপক গুরুত্ব পায়। ওই ঘটনার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ছিলেন একজন মরক্কোর নাগরিক, যার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ থাকা সত্ত্বেও আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তির পর তিনি অপরাধটি করেন। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী জোটের ৩৪৫ জন এমপি বিলটির পক্ষে ভোট দেন, বিপরীতে ১৭৭ জন বামপন্থী এমপি এর বিরোধিতা করেন।

বিলে নিরাপত্তার স্বার্থে একটি নতুন ‘মনোরোগ পরীক্ষার আদেশ’ যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া যাবে এবং প্রয়োজনে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করার সুযোগ থাকবে। যদিও গ্রিন পার্টির মতো কিছু রাজনৈতিক দল এই বিষয়টিকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছে।

বিরোধীদের দাবি, কেবল আটকের মেয়াদ বাড়ালেই বহিষ্কার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে না, কারণ অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করে। সমাজতান্ত্রিক দলের মতে, এটি বিচার ছাড়াই কারাবাসকে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে বিলটি এখন সিনেটে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে, যেখানে মে মাসের শেষের দিকে এটি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত