ফিক্সিংয়ে জড়িত ক্রিকেটারসহ ৫ জন নিষিদ্ধ

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরে (২০২৫-২৬) আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ক্রিকেটারসহ চারজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেটিং-সংশ্লিষ্টতা, তথ্য গোপন এবং তদন্তে অসহযোগিতার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত চারজন হলেন চিটাগং রয়্যালসের লজিস্টিক ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক, ক্রিকেটার অমিত মজুমদার এবং সিলেট টাইটানসের টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী। তাদের কারণ দর্শানোর জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’র আওতায় চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক সিইও সামিনুর রহমানকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিপিএলের ৯ম থেকে ১১তম আসর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল বিপিএলের অন্দর মহলের পরতে পরতে জমে থাকা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। তামিম জানান, এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শাল। তদন্তে উঠে এসেছে, তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন গভর্নিং কাউন্সিল বিতর্কিত ব্যক্তিদের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা দিতে বাধ্য করেছিল। এমনকি কোনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তি ছাড়াই পুরো টুর্নামেন্ট শেষ করা হয়েছে, যা ক্রিকেট বিশ্বে বিরল ও বিস্ময়কর।

তামিম ইকবাল সরাসরি সিলেট টাইটানস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের নাম উল্লেখ করে বলেন, এই অনিয়মের ফলে বিসিবির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দল দেওয়া হলো? তামিমের মতে, বিপিএলকে স্বচ্ছ করতে হলে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক লেনদেনেও চরম অরাজকতা লক্ষ করা গেছে।

সবশেষে তামিম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি বিপিএলকে পরিচ্ছন্ন করা না যায় এবং মানসম্মত ফ্র্যাঞ্চাইজি খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে বিপিএল আয়োজন না করাই শ্রেয়। এতে অন্তত দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে না। যদিও অন্তর্বর্তী বোর্ড হিসেবে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নিচ্ছেন না, তবে ভবিষ্যতে যারা বোর্ডে আসবেন, তাদের জন্য এই অনিয়মগুলো প্রকাশ করাকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত