ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্রের তথ্য জানতে কংগ্রেসে বিরল উদ্যোগ

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৮:১০ এএম

ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার অজুহাত দেখিয়ে দেশটির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল বরাবরই নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ‘অস্পষ্টতার’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। তেহরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবার ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র ভা-ারের বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিরল এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে স্পষ্টতা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

ধারণা করা হয়, ইসরায়েল ১৯৬০-এর দশক থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। তবে দেশটি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বা অস্ত্রভা-ারের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। সম্প্রতি ৩০ জন কংগ্রেস সদস্যের সই করা চিঠিতে বলা হয় উপসাগরীয় অঞ্চলে পারমাণবিক ভারসাম্য, এই সংঘাতে যেকোনো পক্ষের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত থাকার সাংবিধানিক অধিকার কংগ্রেসের রয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এক পক্ষের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সরকারি অস্পষ্টতা ওই অঞ্চলে সুসংহত পরমাণু বিস্তাররোধ নীতি কার্যত অসম্ভব করে তুলছে।

গত ৪ মের ওই চিঠিতে আইনপ্রণেতারা সরাসরি জানতে চান, ইসরায়েলের কাছে কী ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে এবং তাদের ওয়ারহেড ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ কী। বিশেষভাবে তারা নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার বা ডিমোনা স্থাপনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তোলেন, যেটিকে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কেন্দ্র বলে মনে করা হয়। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়, ইসরায়েলের বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা আছে কি না এবং থাকলে কোন মাত্রায়। পাশাপাশি বিভাজ্য পদার্থ ও প্লুটোনিয়াম উৎপাদন সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আইনপ্রণেতারা উল্লেখ করেন, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্য ধারাবাহিকভাবে এই উপসংহারকে সমর্থন করে যে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের অনুমান অনুযায়ী, ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড, ৭৫০ থেকে ১ হাজার ১১০ কেজি প্লুটোনিয়াম মজুদ, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ছয়টি সাবমেরিন এবং ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

এর আগে পৃথকভাবে কিছু আইনপ্রণেতা ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি তুলেছিলেন। তবে কংগ্রেস থেকে সমন্বিতভাবে প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের ওপর এমন চাপ খুবই বিরল। গাজায় চলমান গণহত্যা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে। ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং পলিসি প্রজেক্টের পরিচালক জোশ রুবনার আল-জাজিরাকে বলেন, ‘কংগ্রেস সদস্যরা ঠিকই প্রশ্ন তুলেছেন ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন কেন ছাড় পাবে, অথচ আমরা ইরানকে এমন অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে চাইছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত